নিউইয়র্কে আজ মেয়র নির্বাচন: বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি এই ভোটে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে আজ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত মেয়র নির্বাচন। এই নির্বাচনে তিন প্রার্থী—ডেমোক্রেটিক পার্টির জোহরান মামদানি, নিউইয়র্ক রাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া—তিনজনই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে আজ (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত মেয়র নির্বাচন। এই নির্বাচনে তিন প্রার্থী—ডেমোক্রেটিক পার্টির জোহরান মামদানি, নিউইয়র্ক রাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া—তিনজনই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই নগরের নেতৃত্ব নির্ধারণের এই ভোট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
নিউইয়র্কে প্রতি চার বছর পর মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একজন মেয়র সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। এবারকার নির্বাচনের মূল আকর্ষণ হলো তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের মুখোমুখি লড়াই—প্রগতিশীল, ক্ষমতাসীন ও রক্ষণশীল প্রার্থীদের মধ্যে।
বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস (ডেমোক্রেটিক পার্টি) এ বছর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল মামলা হলেও তা আদালত খারিজ করে দেয়। এরপর থেকেই শহরজুড়ে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা তৈরি হয়।
নিউইয়র্ক: বৈচিত্র্যের প্রতীক এক নগর
নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল শহর। ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত এ শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ, যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১ হাজার ৩১৪ জন মানুষ বসবাস করেন। শহরটি পাঁচটি বরো বা প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত—ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটান, কুইন্স ও স্টেটেন আইল্যান্ড।
ব্রঙ্কস হিপ-হপ সংগীতের জন্মস্থান এবং ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের জন্য বিখ্যাত। ব্রুকলিন শিল্প, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ২৫ লাখের বেশি মানুষ বাস করেন।
ম্যানহাটান নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক হৃদয়—ওয়াল স্ট্রিট, ব্রডওয়ে ও সেন্ট্রাল পার্ক এখানেই। কুইন্সে রয়েছে শহরের দুটি প্রধান বিমানবন্দর, আর স্টেটেন আইল্যান্ড পরিচিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য।
শহরের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। বাসিন্দারা ২০০টির বেশি ভাষায় কথা বলেন। ২০২০ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, শহরের ৩০.৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২৮.৩ শতাংশ হিসপানিক, ২০.২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ও ১৪.৬ শতাংশ এশীয়।
মেয়র প্রার্থীদের পরিচয়
জোহরান মামদানি (৩৪)
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি একজন প্রগতিশীল রাজনীতিক এবং ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টিরও সমর্থন পেয়েছেন। তিনি মুসলিম অভিবাসী পরিবারের সন্তান ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট আন্দোলনের অন্যতম মুখ। তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভাড়ার স্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বিনামূল্যে শিশু যত্নসেবা ও কম খরচের গণপরিবহন ব্যবস্থা। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।
অ্যান্ড্রু কুমো (৬৭)
নিউইয়র্ক রাজ্যের সাবেক গভর্নর ও বর্তমান স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অধিকারী। তিনি আগে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং ও আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যৌন হয়রানির অভিযোগে গভর্নরের পদ ছাড়লেও এখনো প্রবীণ ভোটারদের মাঝে তাঁর প্রভাব রয়েছে। জরিপে অবশ্য তিনি জোহরান মামদানির চেয়ে অন্তত ১০ পয়েন্টে পিছিয়ে।
কার্টিস স্লিওয়া (৭১)
রিপাবলিকান প্রার্থী ও ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলস’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কার্টিস স্লিওয়া রক্ষণশীল ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অপরাধ দমন, পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করা এবং কর হ্রাস তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের মূল প্রতিশ্রুতি।
ভোটের সময়সূচি
আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিউইয়র্কজুড়ে ভোটগ্রহণ চলবে। শহরের কিছু এলাকায় সময়সূচিতে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে। আগাম ভোটগ্রহণ ২৫ অক্টোবর শুরু হয়ে ২ নভেম্বর শেষ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নগরের নেতৃত্ব কার হাতে উঠবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এমবি এইচআর

