জামিনে থাকা যুবলীগ নেতা সম্রাটকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এই আদেশ দেন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানান, আজ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং আসামির হাজিরার দিন ধার্য ছিল। সম্রাটের পক্ষে আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন আদালতে হাজিরার জন্য আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তা বাতিলের আবেদন করেন। শুনানিতে বিচারক জানতে চান, সম্রাট বর্তমানে কোথায় আছেন, যা তার আইনজীবী জানেন না। এরপর বিচারক নির্দেশ দেন, আগামী রবিবার সম্রাটের ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে হাজিরা বাতিলের আবেদন শুনানি হবে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্রাট কাকরাইলের ‘মেসার্স হিস মুভিজ’ প্রতিষ্ঠান আড়ালে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাতেন। ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন ও সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে পাচার করেন।
মামলায় বলা হয়েছে, সম্রাট ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে র্যাব তাকে ও সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে। কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার অপরাধে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর ৭ অক্টোবর অস্ত্র ও মাদক আইনে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দায়ের করে। মামলার বিচার ঢাকার বিভিন্ন আদালতে চলমান।
এমবি এইচআর

