ফাঁকা ৬৩ আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কৌশলগত কারণে ফাঁকা রাখা ৬৩টি আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে বিএনপি। গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও জোট রাজনীতি ও স্থানীয় সমীকরণ বিবেচনায় এই ৬৩টি আসন ফাঁকা রাখা হয়।

Nov 16, 2025 - 13:42
 0  2
ফাঁকা ৬৩ আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিএনপি
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কৌশলগত কারণে ফাঁকা রাখা ৬৩টি আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে বিএনপি। গত ৩ নভেম্বর দলটি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও জোট রাজনীতি ও স্থানীয় সমীকরণ বিবেচনায় এই ৬৩টি আসন ফাঁকা রাখা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, শরিক দলের পাঠানো প্রার্থী তালিকা যাচাই করে একটি শর্টলিস্ট তৈরি করেছে বিএনপি। এখন মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান, জয়ের সম্ভাবনা এবং স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা—সব দিক যাচাই চলছে। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী শরিকদের নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে—এ বাধ্যবাধকতাও আসন বণ্টনে বড় প্রভাব ফেলছে।

বিএনপি নেতারা জানান, নভেম্বরের মধ্যেই ফাঁকা থাকা আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। তফসিল ঘোষণার আগেই পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই জোট শরিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবেন। সেই বৈঠকের আলোচনার ওপর নির্ভর করে বিএনপি ও জোটের মনোনয়ন একই সঙ্গে বা ধাপে ধাপে ঘোষণা হতে পারে।

ঘোষিত ২৩৭ আসনের কিছু এলাকায় স্থানীয় দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় সেগুলো সমাধানেও উদ্যোগী হয়েছে দল। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় জেলা ও মহানগর নেতারা সমঝোতার দায়িত্ব পেয়েছেন। কোথাও সমাধান না হলে ঢাকায় ডেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমঝোতা করানো হচ্ছে। সম্প্রতি কুমিল্লা-৯ আসনে প্রার্থী আবুল কালাম এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলার মধ্যে এমন সমঝোতা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, মিত্রদের জন্য বিএনপি যেসব আসন ছাড়ছে, তার আলোচনাও প্রায় চূড়ান্ত। আরপিও সংশোধিত না হলে শরিকদের নিজেদের প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। যেসব আসনে এখনও সমস্যা আছে বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ, সেগুলো দ্রুত শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোটসহ বিএনপির মিত্ররা সাম্প্রতিক বৈঠকে দ্রুত মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করার অনুরোধ জানায়। তারা বলেন, বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রচারণায় নেমে পড়েছে; তাই শরিকদের ক্ষেত্রেও দেরি না করাই উত্তম। বৈঠকে সংশোধিত আরপিওর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া জামায়াত ছাড়া অন্যান্য ইসলামী ও বামপন্থি কয়েকটি দলকে নিয়ে বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে বিএনপি। এসব দলের অনেকেরই নিবন্ধন থাকায় সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী তাদের নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার গত ৪ নভেম্বর আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি শরিকদের ৫৯টি আসন দিয়েছিল। এবার রাজনৈতিক বাস্তবতায় ২৫–৩০টি আসন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আসনে শরিকদের মনোনয়ন দিতে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। তবে জোট বড় হলে ছাড়ের সংখ্যা বাড়তে পারে—তবে মূল লক্ষ্য, সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

এমবি এইচআর