জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পুরোপুরি যোগ্যতা উপদেষ্টাদের নেই: রাশেদ খান
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণে যোগ্য নন এবং তাদের কাজ থেকে বেশি প্রত্যাশা রাখা যাচ্ছে না।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণে যোগ্য নন এবং তাদের কাজ থেকে বেশি প্রত্যাশা রাখা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে রাশেদ খান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অভিযান, দুর্নীতিবাজ আমলাদের আর্থিক ব্যবস্থা জিজ্ঞাসা ও অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্তের মতো দাবি বাস্তবায়ন হয়নি; বরং অনেকে প্রটেকশন ও পুনর্বাসন পেয়েছে।
রাশেদ খান দাবি করেন, সমাজ থেকে অনাচার ও অবিচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতির আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও মাদক, চোর-ডাকাত, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ও কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির বিপরীতে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখা যায়নি।
সরকারের স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা ও আমলাদের সম্পদের বিবরণ প্রতি তিন বা ছয় মাসে জনসমক্ষে বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তদুপরি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের সম্পদহিসাব জোরদার করার যে বিধান থাকত, তাতে পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, এই দুটি খাত সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া প্রয়োজন ছিল, কিন্তু প্রাসঙ্গিক কাজের পরিবর্তে অগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের মূল্যায়নে তিনি বলেন, সরকারের আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় মোটামুটি ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে। বাকি চার মাসে তাই খুব বেশি প্রত্যাশা করা উচিত নয়; যতটুকু ইতিমধ্যে হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
শেষে রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড ইতিহাসের কাঠগড়ে দাঁড়াবে এবং যদি রাষ্ট্রীয় আমূল পরিবর্তন না আনা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন গণ-অভ্যুত্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এমবি এইচআর

