জুলাই আহতের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো জুলাই আন্দোলনকারীকে

ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মামলায় মো. হাসান (২২) নামে এক আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জুলাই যোদ্ধাসহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

Aug 26, 2025 - 14:13
 0  2
জুলাই আহতের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো জুলাই আন্দোলনকারীকে
ছবি, সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে মাথিয়ারা এলাকায় হারুনের পিংকি স্টোরে এলাকার কিশোর-যুবকরা টেলিভিশনে খেলা দেখে হৈ-হুল্লোড় করে। এতে বিরক্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী পল্লী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম ভূঞা যুবকদেরকে হৈ-হুল্লোড় করতে বারণ করেন। যুবকরা তার কথা না শোনায় তিনি ওই এলাকার ৪ যুবকের নাম উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের পর ১৮ আগস্ট রাতে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ কিশোর-যুবককে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৬ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে সিএনজি অটোরিকশা চালক হানিফের ছেলে হাসানকে আগস্ট অভ্যুত্থানের আহতের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানায়, ১৮ আগস্ট আটকরা সবাই ক্রীড়াপ্রেমী। তারা ওই দোকানে সব সময় টিভিতে খেলা দেখে হৈ-হুল্লোড় করে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু তারা কেউ এলাকার খারাপ ছেলে নয়। তাদেরকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও শুধুমাত্র হাসানকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় আমরা হতবাক। হাসান আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিল। ২ আগস্ট সে তার ফেসবুক প্রোফাইল লাল করায় তাকে স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা মারধরের চেষ্টাও করেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সে নানাভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিল।

পার্শ্ববর্তী ধোনসাহাদ্দা এলাকার গ্যাজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা আদনান হোসেন অতুল জানান, হাসান আমার সঙ্গে বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলনে যুক্ত ছিল। ওই সময়ে আমরা নানা কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নিয়েছি। এলাকার সন্ত্রাসীদের ভয়ে তখন এগুলো আমরা কোথাও প্রচার করতাম না। আমার সহযোদ্ধা হাসানকে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি জুলাই আহত ব্যক্তির মামলার মেরিট নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। এ মামলার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের হয়রানি কোনোভাবে কাম্য নয়।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল হক বলেন, হাসানসহ যাদেরকে আটক করা হয়েছে; তারাতো খারাপ ছেলে নয়। তারা দোকানে খেলা দেখে চিৎকার; চেঁচামেছি করতো। এ ঘটনায় আটক করে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো দুঃখজনক।

ভুক্তভোগী হাসানের বাবা হানিফ বলেন, আমার ছেলেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চলতে দেখিনি। কোর্ট থেকে মামলার কাগজ তুলে দেখি, সেখানে আমার ছেলেকে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য বলে উল্লেখ করেছে। আমার ছেলে নাকি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাকিয়া রোডে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেছে। এসব নাকি আমার ছেলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। সবই আমার ছেলেকে জেলে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যাচার। আমার অসুস্থ ছেলের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার করে হয়রানি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমার ছেলের মুক্তি চাই।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকালে আহত এক ব্যক্তির মামলার তদন্তে গ্রেফতার হাসানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ফলে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এখানে কাউকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়নি।

এমবি এইচআর