ভাইরাল ‘বাগানের মালি’ গানের পেছনের গল্প জানেন কি
‘তোমারে ফুটাইতে গো আমার চোখের নিচে কালি/ তুমি যেই বাগানের ফুল আমি সেই বাগানের মালি’—সহজ কথার এ দুই লাইন ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক রিলস, ইউটিউব থেকে টিকটকে। প্রয়াত পাগল হাসানের লেখা অপ্রকাশিত গান ‘বাগানের মালি’ এখন ট্রেন্ডিংয়ে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘তোমারে ফুটাইতে গো আমার চোখের নিচে কালি/ তুমি যেই বাগানের ফুল আমি সেই বাগানের মালি’—সহজ কথার এ দুই লাইন ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক রিলস, ইউটিউব থেকে টিকটকে। প্রয়াত পাগল হাসানের লেখা অপ্রকাশিত গান ‘বাগানের মালি’ এখন ট্রেন্ডিংয়ে। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গানটির দুই লাইন পরিবেশন করেন লালন ব্যান্ডের ভোকাল নিগার সুলতানা সুমি। এরপরই গানটি ভাইরাল হয়ে যায়। লালন ব্যান্ড জানিয়েছে, পাগল হাসানের সঙ্গে লালনের কোলাবোরেশনে গানটি প্রকাশিত হবে আগামী মাসের মধ্যভাগে।

গত বছরের ১৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকার পাগল হাসান। মৃত্যুর প্রায় দেড় বছর পর পাগল হাসানের এ গান নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয় ব্যান্ড লালন। মৃত্যুর আগেই গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে যান প্রয়াত এ গীতিকার।
লালনের ড্রামার ও দলনেতা তিতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাগল হাসানের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এর আগে তাঁর তিনটি গান আমরা করেছি, যা শ্রোতারা অনেক পছন্দ করেছেন। এ গানও সবার ভালো লাগবে বলে আশাবাদী।’
গানটি তৈরির গল্পে তিতি জানান, ২০১৯ সালে প্রথমবার পাগল হাসানের কণ্ঠে গানটি শোনেন তাঁরা। লালনকে গানটি করার প্রস্তাব দিলে তা ভালোবেসে ফিরিয়ে পাগল হাসানকে কণ্ঠ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর পাগল হাসান কণ্ঠ দেন। গানটি প্রকাশের লাইনআপে ছিল, কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর মৃত্যু হলে গানটি মুক্তি দেওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সবশেষে গানটি মুক্তি পাচ্ছে।
তিতি বলেন, ‘আমাদের সব কাজ সম্পন্ন হলেও তাঁর পরিবারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁদের আমরা সময় দিয়েছি। কদিন আগেই তাঁদের অনুমতি পেয়ে গানটির বাকি কাজ শেষ হয়। পাগল হাসানের সঙ্গে ব্যান্ড লালনের কোলাবোরেশনে এটি আসতে যাচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি নিয়ে এত আলোচনা অবাক করেছে তিতিকে। জানান, এ দুই লাইন এভাবে ছড়িয়ে পড়বে, তা ধারণায় ছিল না। শ্রোতাদের ভালোবাসায় আপ্লুত ব্যান্ড লালন।
গানটির কিছু অংশে পাগল হাসানের সঙ্গে পাওয়া যাবে লালন ব্যান্ডের ভোকাল নিগার সুলতানা সুমিকে। গানটি নিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাগল হাসান আমাদের বন্ধু, পরিবারের সদস্যের মতো। তাঁর মৃত্যু আমাদের ভীষণ কষ্ট দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি তাঁর স্মৃতিময় এ গানটি যেন শ্রোতাদের কাছে সম্মানের সঙ্গে পৌঁছে দিতে পারি।’
ব্যান্ড লালনের জন্য এর আগে তিনটি গান লিখেছিলেন পাগল হাসান। ব্যান্ডটির ‘রুহানি’, ‘পাগলা ঘোরা’ আর ‘পাগল চিনে না’ গানের গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসান। তাঁর অন্যান্য গানের মধ্যে—‘জীবন খাতা’, ‘আসমানে যাইয়ো না রে বন্ধু’, ‘আমি এক পাপিষ্ঠ বান্দা’ ও ‘রেলগাড়ির ইঞ্জিন’ উল্লেখযোগ্য।
এমবি এইচআর