প্রশিক্ষণকালে সমুদ্রে বিধ্বস্ত তাইওয়ানের এফ-১৬,পাইলট নিখোঁজ
নিয়মিত প্রশিক্ষণ অভিযানের সময় সমুদ্রে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তাইওয়ানের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে পাইলটের সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
নিয়মিত প্রশিক্ষণ অভিযানের সময় সমুদ্রে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তাইওয়ানের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে পাইলটের সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
তাইওয়ানের বিমান বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে পূর্ব তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন বিমান ঘাঁটি থেকে এক আসনবিশিষ্ট এফ-১৬ যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়ন করে। পরে সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে হুয়ালিয়েন কাউন্টির ফেংবিন টাউনশিপ থেকে প্রায় ১০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে বিমানটি সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়। বিমান বাহিনীর ধারণা, দুর্ঘটনার আগে পাইলট ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তবে এখনো তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পরপরই বিমান বাহিনী একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র স্থাপন করে অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে। মন্ত্রিসভার মুখপাত্র মিশেল লি এক বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী ও আশপাশের মাছ ধরার জাহাজগুলোকে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান অর্ডার দিয়েছে। এই বিমানগুলো চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা তাইওয়ানের পুরোনো এফ-১৬ এ/বি জেটের উন্নত সংস্করণ। এর আগে ২০২৩ সালের শেষ দিকে তাইওয়ান তাদের ১৪১টি পুরোনো এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে এফ-১৬ভি মানে উন্নীত করার কাজ সম্পন্ন করে। নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলো ২০২৬ সালে সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে এসব বিমান পাওয়া কঠিন হতে পারে।
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটল। চীন গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তাইওয়ানের আশপাশে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব তৎপরতা ‘গ্রে-জোন কৌশল’-এর অংশ, যার লক্ষ্য সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই তাইওয়ানের সামরিক সক্ষমতার ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা।
এমবি এইচআর

