উত্তেজনায় চীন–জাপান সম্পর্ক: পাঁচ লাখ ফ্লাইট বাতিল

তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাপান ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানে যাওয়ার প্রায় পাঁচ লাখ ফ্লাইট বাতিল করেছে চীন। একইসঙ্গে স্থগিত রাখা হয়েছে ভিসা প্রক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমও।

Nov 18, 2025 - 13:46
 0  3
উত্তেজনায় চীন–জাপান সম্পর্ক: পাঁচ লাখ ফ্লাইট বাতিল
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাপান ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানে যাওয়ার প্রায় পাঁচ লাখ ফ্লাইট বাতিল করেছে চীন। একইসঙ্গে স্থগিত রাখা হয়েছে ভিসা প্রক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমও। দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন সংকটে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন— চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ করে, তবে জাপান সামরিকভাবে জড়িত হতে পারে। তার এই বক্তব্যের পর চীনা সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং দেশটির নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের জাপানে না যাওয়ার সতর্কতা জারি করে।

চীনের কমপক্ষে সাতটি এয়ারলাইনস ঘোষণা করেছে যে তারা যাত্রীদের বুক করা জাপানগামী ফ্লাইট বিনা খরচে বাতিলের সুযোগ দেবে। এর মধ্যে তিনটি রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনসও রয়েছে। বিমান ভ্রমণ বিশ্লেষক হানমিং লি জানান, ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে জাপানমুখী প্রায় পাঁচ লাখ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে তথ্য ইঙ্গিত করে।

চীনা গণমাধ্যম জিমু নিউজ জানিয়েছে, সিচুয়ান এয়ারলাইনস জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত চেংদু–সাপ্পোরো রুটের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাজেট ক্যারিয়ার স্প্রিং এয়ারলাইনসও একাধিক জাপান ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

চীন জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটক উৎস, পাশাপাশি বর্তমানে দেশটিতে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার চীনা শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে জাপানের খুচরা ও ভ্রমণ খাতেও— সোমবার এসব খাতের শেয়ারমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

হানমিং লি আরও জানান, কভিড মহামারির পর এত বড় মাত্রার ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা তিনি দেখছেন না; তবে এর তেমন বড় প্রভাব চীনের অভ্যন্তরীণ বিমানশিল্পে পড়বে না, কারণ চীন–জাপান এয়ার ট্রাভেল বাজার তুলনামূলকভাবে ছোট।

পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, এই ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল কূটনৈতিক অচলাবস্থা থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও কঠিন পর্যায়ে ঠেলে দিতে পারে।

এমবি এইচআর