অবৈধ বালু লুটের মহোৎসব, ১৪ দিনে ২৫ কোটি টাকার বালু উধাও

সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদে অবৈধভাবে ড্রেজার চালিয়ে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ সত্ত্বেও রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত চলছে এই বালু উত্তোলন।

Oct 28, 2025 - 14:45
Oct 28, 2025 - 14:53
 0  2
অবৈধ বালু লুটের মহোৎসব, ১৪ দিনে ২৫ কোটি টাকার বালু উধাও
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদে অবৈধভাবে ড্রেজার চালিয়ে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ সত্ত্বেও রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত চলছে এই বালু উত্তোলন। গত ১৪ দিনে কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ১৩ অক্টোবর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পিয়ারপুল এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘এসো কাজ করি’।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধোপাজান নদটি বর্তমানে ইজারা ছাড়া রয়েছে। তবু রাতের পর রাত চলেছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। এতে বেড়িবাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী স্কুল, বসতবাড়ি ও ফসলি জমিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

নদটি সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুরমা নদীতে মিশেছে। ২০১৮ সাল থেকে নদটির ইজারা বন্ধ থাকলেও বারবার অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। সম্প্রতি লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ, যা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়নে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এর সুযোগে প্রতিরাতে অর্ধশতাধিক ড্রেজার চালিয়ে কোটি কোটি টাকার সিলিকা বালু লুট করছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অক্ষয়নগর থেকে ডলুড়া পর্যন্ত নদীর দুই তীরে প্রতিরাতে চলছে বালু উত্তোলন। উত্তোলিত বালু কার্গোযোগে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে মজুত করে পরবর্তীতে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমতি বাতিলের সুপারিশসহ ২৪ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় শ্রমিক ও পরিবেশ কর্মীরা জানান, রাতের অন্ধকারে বালুভর্তি একাধিক নৌকা আটক করার পরও প্রভাবশালী চক্র স্থানীয়দের হুমকি দিচ্ছে। তাদের দাবি—বালু-পাথর আহরণের ইজারা পুনরায় চালু করে পরিবেশসম্মত উপায়ে উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, “বিধিবহির্ভূতভাবে ভিট বালু উত্তোলনের নামে এখন সিলিকা বালু লুট চলছে। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।”

সুনামগঞ্জ শ্রমিক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল জানান, “এই চক্র ইতিমধ্যে আড়াই শ কোটি টাকার বালু লুট করেছে, অথচ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।”

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, “রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, ধোপাজান নদে বালু লুট বন্ধ না হলে অচিরেই এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জনজীবন ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

এমবি এইচআর