যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

Jan 21, 2026 - 12:06
 0  2
যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

জানা গেছে, গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের জন্য আবুল কালাম আজাদ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওই রায়ে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়ের করলে এক বছরের জন্য তার সাজা স্থগিত থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এসব অভিযোগে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অপরাধ প্রমাণিত হয়। একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় তা খারিজ করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যোগ্যতা থাকলেও সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে একটি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বাকি চারটি অভিযোগে পৃথক দণ্ড ঘোষণা করা হয়নি।

এই রায়ের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের মামলায় প্রথম কোনো আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। তবে রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আজাদ পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এমবি এইচআর