নারীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য : জামায়াত নেতার জিহ্বা ছিঁড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের দেওয়া মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

Jan 26, 2026 - 12:02
 0  2
নারীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য : জামায়াত নেতার জিহ্বা ছিঁড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের দেওয়া মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই মন্তব্যকে নারী অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নারী শিক্ষার্থীরা বলেন, জামায়াত নেতার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ‘বেশ্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা চরম অবমাননাকর। এক পর্যায়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন মন্তব্যকারীর জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলা উচিত।

বিক্ষোভে বক্তব্য দেওয়া এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, নারীদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা হলেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসু সাংগঠনিকভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে না এবং নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা রক্ষায় নীরব রয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ডাকসুর অনেক নেতাই ক্যাম্পাসে সক্রিয় নন এবং তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে রাজনৈতিক দলের প্রচারে বেশি মনোযোগী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীরা কি এই উদ্দেশ্যেই তাদের ভোট দিয়েছে।

এর আগে বিক্ষোভকারীরা বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। উল্লেখ্য, শামীম আহসান এক বক্তব্যে দাবি করেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ একসময় বেশ্যাখানা ও মাদকের আড্ডা ছিল।”

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই বক্তব্যকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম ও ঐতিহ্যকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এমবি এইচআর