রাশিয়ার সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি সই ভারতের

ভারত ও রাশিয়া তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি বড় চুক্তিতে সই করেছে।

Jan 27, 2026 - 13:07
 0  3
রাশিয়ার সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি সই ভারতের
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ভারত ও রাশিয়া তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি বড় চুক্তিতে সই করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তারা এই বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করা।

বিনয় কুমার বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারতের প্রস্তাবিত এই লক্ষ্যমাত্রায় পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সহজ ও গতিশীল করতে ভারত ও রাশিয়া একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তবে এই বাণিজ্যের বড় অংশই রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলনির্ভর। ভারত এখন রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়িয়ে এই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল নিয়েছে।

ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে গত দুই বছর ধরে দুই দেশ নিজস্ব মুদ্রা—রুপি ও রুবল—ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। রাষ্ট্রদূত জানান, এই মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের ঝুঁকি কমাবে।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি যে কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা তারই বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষ করে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে বড় আকারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে জ্বালানির পাশাপাশি সার, ওষুধ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বাণিজ্যেও নতুন গতি আসতে পারে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এত বড় বাণিজ্য পরিচালনা করা ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এমবি এইচআর