পাহলভির জনপ্রিয়তা নিয়ে সংশয়ে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরোধী নেতা রেজা শাহ পাহলভি ভদ্র ও সৌজন্যপূর্ণ মানুষ মনে হলেও ইরানের ভেতরে তিনি পর্যাপ্ত জনসমর্থন জোগাড় করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরোধী নেতা রেজা শাহ পাহলভি ভদ্র ও সৌজন্যপূর্ণ মানুষ মনে হলেও ইরানের ভেতরে তিনি পর্যাপ্ত জনসমর্থন জোগাড় করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। বুধবার ওভাল অফিসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেন তিনি। এ ছাড়া ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে ঘিরে বিচার বিভাগের তদন্তে রিপাবলিকানদের সমালোচনাও উড়িয়ে দেন ট্রাম্প।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবরের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আগেও আন্দোলনকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এবার তিনি ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুব ভালো মানুষ মনে হয়। কিন্তু নিজের দেশে তিনি কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন, তা আমি জানি না। আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।” তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না তার দেশ তার নেতৃত্ব মেনে নেবে কি না। তবে যদি নেয়, সেটি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।”
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রেজা পাহলভির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই। এবারের মন্তব্যে পাহলভির নেতৃত্বের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয় আরও স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ত্যাগ করেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিনি একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে এলেও ইরানের বিরোধী শক্তিগুলো নানা মতাদর্শে বিভক্ত। রাজতন্ত্রপন্থীরা তাঁকে সমর্থন করলেও দেশের ভেতরে বিরোধীদের সংগঠিত উপস্থিতি সীমিত বলেই বিশ্লেষকদের মত।
ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভের চাপে তেহরানের সরকার পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাঁর মতে, “যেকোনো সরকারই ভেঙে পড়তে পারে—পতন হোক বা না হোক, সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর শেষের পথে থাকা ট্রাম্প ওভাল অফিসের রেজল্যুট ডেস্কে বসে একটি মোটা ফাইল দেখিয়ে বলেন, এতে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ শপথ নেওয়ার পর থেকে তাঁর প্রশাসনের অর্জনের নথি রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন কংগ্রেসনাল মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বাস্তববাদী মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাধারণত প্রেসিডেন্সি জয়ের পর মধ্যবর্তী নির্বাচন জেতা কঠিন হলেও রিপাবলিকানরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
এমবি এইচআর

