ট্রাম্প ইস্যুতে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনায় ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও পাঁচ মাস বাকি থাকলেও আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ইতোমধ্যে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও পাঁচ মাস বাকি থাকলেও আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ইতোমধ্যে নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আচরণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভূমিকার কারণে বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনা সামনে এসেছে, যেখানে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের নাম উঠে এসেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপ থেকে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটির কিছু রাজনৈতিক মহল। ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতাদের একটি অংশের দাবি, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের উচ্চাভিলাষ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি তার হুমকিসূচক বক্তব্য আন্তর্জাতিক নৈতিকতার পরিপন্থী। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তবে এখন পর্যন্ত এসব আলোচনা রাজনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের ফুটবল ফেডারেশন কিংবা ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ত্রিপক্ষীয় আয়োজনে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের সূচিতে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামার বিপক্ষে ম্যাচ। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডকে খেলতে হবে ব্রাজিল, মরক্কো ও হাইতির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি সামনে এনে কয়েকজন সংসদ সদস্য মন্তব্য করেছেন, জাতীয় দলগুলোর ক্রীড়া নীতি ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বয়কটের আহ্বানের পেছনে মূলত ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি তার বক্তব্য—প্রধান ভূমিকা রাখছে। বিরোধী রাজনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর এমন পরিবেশে হওয়া উচিত, যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা খেলাধুলার সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে যাবে না।
তবে সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে এই উদ্যোগ কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্কটল্যান্ডের একটি রাজনৈতিক দলও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছে, যদিও তাদের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পক্ষে সমর্থন জানানো।
গত বছরের ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি প্রকাশ করা হয়। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ডসহ অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট বা অংশগ্রহণ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফাও এ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফুটবল ও রাজনীতির সংযোগ নতুন নয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমবি এইচআর

