দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটক, ঢাকায় নেওয়ার আগেই প্রাণ গেল রোগীর

শরীয়তপুরে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে ঢাকায় নেওয়ার পথে জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামে এক স্ট্রোক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

Jan 14, 2026 - 13:27
 0  2
দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটক, ঢাকায় নেওয়ার আগেই প্রাণ গেল রোগীর
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুরে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে ঢাকায় নেওয়ার পথে জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামে এক স্ট্রোক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তার মৃত্যু হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পথে দুই স্থানে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বিলম্বই রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।

পালং মডেল থানা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা জমশেদ আলী ঢালী মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল ৯টার দিকে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তার স্ট্রোকের উপসর্গ শনাক্ত করেন। পরে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে রেফার করা হয়।

পরিবার প্রথমে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করলেও স্থানীয় কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী ঢাকায় নিতে হলে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হয়ে পরিচিত একটি ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয়।

স্থানীয় সিন্ডিকেটের বাধা এড়াতে হাসপাতাল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকা থেকে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তবে যাত্রা শুরুর মাত্র ১০ মিনিট পর প্রেমতলা এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক গাড়িটির গতিরোধ করেন। সেখানে অন্তত আধা ঘণ্টা বাগবিতণ্ডার পর স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছাড় পায়।

এরপর জাজিরা উপজেলার জামতলা এলাকায় আবারও দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রোগীবাহী গাড়িটি আটকানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. সালমান ও তার সহকারীকে মারধর করা হয়। দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গাড়িটি ঢাকার দিকে রওনা দেয়।

কিন্তু বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় পৌঁছানোর আগেই জমশেদ আলী ঢালী মারা যান। পরে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, ‘আমার নানাকে যদি সময়মতো ঢাকায় নিতে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন। দুই জায়গায় গাড়ি আটকে রেখে মারধর করায় দেরি হয়েছে। যাদের কারণে এই মৃত্যু, তাদের কঠোর শাস্তি চাই।’

অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. সালমান জানান, শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় রোগী নিতে গেলে স্থানীয় সিন্ডিকেটকে দুই থেকে চার হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। অনুমতি ছাড়া রোগী তুললে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হাই মোল্লা বলেন, অন্য জেলার রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। যদি স্থানীয় কোনো অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার রাশেদ আহমেদ জানান, জমশেদ আলীর উচ্চ রক্তচাপ ছিল, বারবার বমি হচ্ছিল এবং স্ট্রোকের উপসর্গ দেখা যাচ্ছিল। সে কারণেই দ্রুত নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ আগস্ট ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকায় একই ধরনের বাধার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ছয় মাস না যেতেই আবারও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অভিযোগে প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

এমবি এইচআর