করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ আগুন : এক দোকান থেকেই উদ্ধার ৩০ মরদেহ

পাকিস্তানের করাচিতে গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বুধবার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধারকর্মীরা অন্তত ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন, যেগুলো মেজানাইন ফ্লোরে অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামের একটি দোকান থেকেই পাওয়া গেছে।

Jan 22, 2026 - 11:08
 0  1
করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ আগুন : এক দোকান থেকেই উদ্ধার ৩০ মরদেহ
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

পাকিস্তানের করাচিতে গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বুধবার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধারকর্মীরা অন্তত ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন, যেগুলো মেজানাইন ফ্লোরে অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামের একটি দোকান থেকেই পাওয়া গেছে।

করাচি সাউথের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা ডন পত্রিকাকে জানান, এর আগে ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ২৮ থেকে বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়ায়। পরে ওই পুড়ে যাওয়া দোকান থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ৬১ জনে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) করাচির এম এ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত তিনতলা বিশিষ্ট গুল প্লাজায় আগুনের সূত্রপাত হয়। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মুহূর্তেই আগুন পুরো মার্কেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। রোববার আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সোমবার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আবার আগুন জ্বলে ওঠে।

ডিআইজি আসাদ রাজা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও দোকানদাররা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে ‘দুবাই ক্রোকারি’ দোকানটিতে অনেক মানুষ আটকা পড়তে পারেন। শেষ যোগাযোগে ভুক্তভোগীরা মনে করেছিলেন, তারা নিরাপদ থাকবেন এবং আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু অপেক্ষার সময় ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রশীদ জানান, বিয়ের মৌসুম উপলক্ষে দোকানটিতে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছিল। সে কারণে দোকানটি রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যদিও সাধারণত রাত ১০টার মধ্যেই দোকান বন্ধ হয়ে যায়।

আগুনে প্লাজার একটি অংশ ধসে পড়ে। ভবনটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি দোকান ছিল। সিন্ধু সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও করাচি কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ছিল না। অতিরিক্ত আইজি আজাদ খানও বলেন, এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

করাচি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কর্মকর্তা জাফর খান জানান, প্রচণ্ড তাপ থাকা সত্ত্বেও ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ফায়ার ব্রিগেড দেরিতে পৌঁছেছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তবে আগুন লাগার সময় ভবনের ছাদের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় অনেক মানুষ বের হতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমবি এইচআর