রাশিয়াকে চাপে ফেলতে মাসে ৫০ হাজার সেনা হত্যার লক্ষ্য ইউক্রেনের

ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা ভাঙতে এবং আলোচনার টেবিলে রাশিয়াকে দুর্বল অবস্থানে আনতে নতুন ও আক্রমণাত্মক রণকৌশল ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

Jan 31, 2026 - 11:36
 0  2
রাশিয়াকে চাপে ফেলতে মাসে ৫০ হাজার সেনা হত্যার লক্ষ্য ইউক্রেনের
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা ভাঙতে এবং আলোচনার টেবিলে রাশিয়াকে দুর্বল অবস্থানে আনতে নতুন ও আক্রমণাত্মক রণকৌশল ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনীর লক্ষ্য হবে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে রণক্ষেত্রে নির্মূল করা।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা এমন পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে যা রাশিয়ার মাসিক নতুন সেনা নিয়োগের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে ক্রেমলিনকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি জানান, গত বছরের শেষ দিকে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে যুদ্ধের কৌশলগত সাফল্যের জন্য এই সংখ্যা মাসে ৫০ হাজারে উন্নীত করাকে ‘সেরা মাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। যদিও কোনো আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা এই হিসাব সম্পূর্ণভাবে যাচাই করেনি।

জেলেনস্কি বলেন, এই নতুন রণকৌশলের মূল ভিত্তি হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাত হানার প্রায় ৮০ শতাংশই ড্রোনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ড্রোন উৎপাদন ও উদ্ভাবন আরও গতিশীল করতে সম্প্রতি মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন অপারেটরদের উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীতে বিশেষ ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

এদিকে রণক্ষেত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকাগুলোতেও রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক হামলার কারণে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, কেবল ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সময় শেষ; রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে কঠোর ও কার্যকর প্রতিরোধই এখন একমাত্র পথ।

এমবি এইচআর