বেশি ঘুম থেকে হতে পারে ভয়াবহ নানা রোগ, সুস্থ থাকতে করণীয়

মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ঘুম অপরিহার্য। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে যেমন কম ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

Oct 22, 2025 - 21:00
 0  2
বেশি ঘুম থেকে হতে পারে ভয়াবহ নানা রোগ, সুস্থ থাকতে করণীয়
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ঘুম অপরিহার্য। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে যেমন কম ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে নয় থেকে দশ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে শরীরে ভয়াবহ কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। ওজন বৃদ্ধি, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, এমনকি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। কখনো কখনো অতিরিক্ত ঘুম থেকে ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ফেমিনা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ঘুম কোনোভাবেই ভালো নয়; বরং এটি অনেক সময় শরীরে চলমান জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।

💤 কেন বেশি ঘুম হয়

সাধারণভাবে প্রতিদিন রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো স্বাভাবিক। তবে নয় থেকে দশ ঘণ্টার বেশি ঘুম হলে সেটিকে অতিরিক্ত ঘুম বলা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঘুমের পেছনে থাকতে পারে—

  • থাইরয়েডের সমস্যা

  • হৃদরোগ

  • স্লিপ অ্যাপনিয়া

  • ডিপ্রেশন

  • কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাব

  • দীর্ঘদিনের ক্লান্তিবোধ বা অনিয়মিত জীবনযাপন

তাছাড়া অনেক সময় কোনো শারীরিক অসুস্থতা না থাকলেও শুধু অব্যবস্থিত ঘুমের রুটিনের কারণেই ঘুম বেড়ে যায়।

⚕️ অতিরিক্ত ঘুম কমানোর উপায়

অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা দূর করতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে বড় পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

১. ঘুমের রুটিন মেনে চলা:
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস তৈরি করুন। সপ্তাহের ছুটির দিনেও সময়সূচি ভাঙবেন না। এতে শরীর ও মস্তিষ্ক ঘুমের নির্দিষ্ট ছন্দে অভ্যস্ত হবে।

২. ঘুমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি:
ঘর রাখুন শান্ত, ঠান্ডা ও অন্ধকার। ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রাখুন। আরামদায়ক বিছানা ও বালিশ ব্যবহার করুন।

৩. দিনে ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করুন:
দুপুরে ভাতঘুমের অভ্যাস ঘুমের রুটিন নষ্ট করতে পারে। দিনের সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখুন বা হালকা শারীরিক কার্যক্রম করুন, যাতে রাতে সহজে ঘুম আসে।

৪. স্লিপ ডায়েরি রাখুন:
প্রতিদিন ঘুমের সময়, সমস্যা ও অভ্যাসগুলো লিখে রাখুন। প্রয়োজনে এই তথ্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরামর্শ নিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে ঘুমের ভারসাম্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই না কম, না বেশি—পরিমিত ঘুমই দিতে পারে সুস্থ ও সতেজ জীবন।

এমবি এইচআর