পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ-মাহফুজ, উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র প্রতিনিধিত্বকারী দুই সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম।

Jan 29, 2026 - 12:23
 0  2
পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ-মাহফুজ, উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র প্রতিনিধিত্বকারী দুই সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং তখন জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের পদত্যাগ কার্যকর হবে। পরদিন ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

তবে পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পরও প্রায় ৫০ দিন ধরে তারা সরকারি বাসভবন ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে জনমনে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে।

এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি গণমাধ্যমকে দাবি করেছেন, প্রায় এক মাস আগে সরকারি বাসা ছেড়ে পরিবাগের নিজ বাসায় উঠেছেন।

তবে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে হেয়ার রোডে অবস্থিত তার সরকারি বাসভবন ‘নিলয়-৬’-এ দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান, তিনি এখনো বাসাটি ব্যবহার করছেন। আশপাশে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্যও জানান, সেখানে নিয়মিত তার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং তিনি যাতায়াত করেন।

অন্যদিকে মাহফুজ আলম বর্তমানে হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ-৩’ নম্বর সরকারি বাংলোতে বসবাস করছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নীতিমালায় বাসা ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই, তবে নির্বাচনের আগেই তিনি বাসা ছেড়ে দেবেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাসা ছাড়ার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সময় থেকেই সরকারে দায়িত্ব পালন করেন আসিফ মাহমুদ। পরে মাহফুজ আলমও উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন এবং তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, অতীতে অনেক রাজনীতিক পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সুবিধা ত্যাগ করেছেন। তিনি মনে করেন, নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে বর্তমান পরিস্থিতি হতাশাজনক।

এমবি এইচআর