বগুড়ায় যমুনার ভয়াবহ ভাঙন: ২ কিমিজুড়ে বিলীন ৫০০ বিঘা জমি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। অসময়ে দেখা দেওয়া এই ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। অসময়ে দেখা দেওয়া এই ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাগুয়া গ্রামে গত কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ভাঙন, এতে প্রায় ৫০০ বিঘা তিন ফসলি কৃষিজমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে।
নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলোর মধ্যে মরিচ, ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ছিল। কৃষকের পরিপক্ব মরিচ তোলার উপযুক্ত সময়েও তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান ভাঙনের মুখে পড়ে কৃষকেরা দ্রুত কেটে নিচ্ছেন। এ ছাড়া ভাঙনের কারণে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়ায় তারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বর্ষাকালেই যমুনায় বড় ভাঙন দেখা দেয়, কিন্তু এবার শুষ্ক মৌসুমেও ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গ্রামবাসী কেউ খাম তুলছেন, কেউ ঘরের দড়ি খুলছেন, আবার কেউ চালা সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চর ঘাগুয়া গ্রামের বাসিন্দা তোতা ফকির (৭০) বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। মরিচ-ধানসহ সব ফসল নদীতে চলে যাচ্ছে। অনেক লোন করে ফসল করেছিলাম, এখন সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান জানান, গত কয়েকদিনে ২টি পরিবারের বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়েছে এবং প্রায় ৫০০ বিঘার বেশি জমি নষ্ট হয়েছে। অর্ধশতাধিক পরিবার এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- divisional প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলেন, চর ঘাগুয়া এলাকায় ভাঙন পরিদর্শন শেষে ৩৪০ মিটার এলাকায় জিও ও টিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে কাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা অনুমোদন পেলে ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এতে গ্রামবাসী ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমবি এইচআর

