তিন দশক পর ধানের শীষে বিএনপির প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেন
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে দীর্ঘ তিন দশকের পর বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে দীর্ঘ তিন দশকের পর বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের আরও ৩৬টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পর মণিরামপুরে ইকবালের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রার্থী হিসেবে ইকবালের নাম ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হন। করতালি, স্লোগান আর আনন্দোল্লাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
প্রার্থী ঘোষণা উপলক্ষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, “উচ্ছ্বাসে বাড়াবাড়ি না করে আমাদের প্রথম দায়িত্ব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করা। তিনি দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসুন—এই কামনা সবার কাছে।”
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইকবাল। একই সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীক পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। এরপর দীর্ঘ তিন দশক ধরে দলীয় জোটের সমঝোতার কারণে যশোর-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। এবার সেই প্রতীক পুনরায় বিএনপির হাতে ফিরে আসায় মণিরামপুরজুড়ে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
মণিরামপুর পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, “তিন দশকের অপেক্ষার অবসান হলো। নিজের প্রতীক, নিজের প্রার্থী পেয়ে মণিরামপুরবাসী খুশি। এত দিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি। জননন্দিত নেতা ইকবাল হোসেনকে পেয়ে তারা আরো আবেগে আপ্লুত। বিপুল ভোটে আমরা জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।”
মণিরামপুর উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ খান আক্তার হোসেন বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভিত্তি এবং এলাকার প্রতি নিবিড় সংযোগ—এই তিন কারণে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শহীদ ইকবাল হোসেন বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী।”
এমবি এইচআর

