পুলিশের হেফাজত থেকেই কি জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয় দীপু চন্দ্র দাসকে?

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস (২৭) নামের এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

Dec 21, 2025 - 13:49
 0  8
পুলিশের হেফাজত থেকেই কি জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয় দীপু চন্দ্র দাসকে?
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস (২৭) নামের এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ও র‍্যাবের দাবি ছিল, উত্তেজিত জনতা তাকে একটি পোশাক কারখানা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে। তবে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগে দীপু চন্দ্র দাস পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন।

‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর অনুসন্ধানে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নীল শার্ট পরিহিত দীপু ভালুকা থানার ওসি হুমায়ুন কবিরের কক্ষে বসে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অনুনয়-বিনয় করছেন। ওই সময় থানার বাইরে উত্তেজিত জনতা তার শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিল। এই ভিডিওটি র‍্যাব-১৪ ঘটনার তদন্তভার নেওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর ২০ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৪–এর পরিচালক নাইমুল হাসান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ফিনিক্স নিটিং লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ দীপু চন্দ্র দাসকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেয়। পরে জনতা তাকে টেনেহিঁচড়ে ভালুকা স্কয়ারে নিয়ে গিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় কারখানার মালিকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে ভিডিও ফুটেজে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, কারখানায় শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়ে দীপু চন্দ্র দাস কোনোমতে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নেন এবং ওসির কক্ষে নিরাপত্তা চান। এ অবস্থায় পুলিশের হেফাজত বা ওসির কক্ষ থেকে কীভাবে তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো, নাকি পুলিশই তাকে ছেড়ে দিয়েছে—সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভালুকা থানার ওসি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ১৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে উগ্রবাদী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী (প্রকৃত নাম ওসমান গনি) মারা যান। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।

গনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। প্রথমে কারখানার ভেতরে তাকে মারধর করা হয়। সেখান থেকে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, যখন দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছিল, তখনো তার শরীরে প্রাণ ছিল এবং এ সময় জনতার একাংশ উল্লাস করছিল।

এদিকে পুলিশ দাবি করেছে, ওসমান গনির হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়ে গেছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হেফাজতে থাকার ভিডিও প্রমাণ সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এমবি এইচআর