চামড়াশিল্পের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি : ইউনুস
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘দেশের চামড়াশিল্পের ব্যাপারে আমরা অপরাধ করেছি, এটার সঠিক মূল্যায়ন করিনি। এই শিল্প দিয়ে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘দেশের চামড়াশিল্পের ব্যাপারে আমরা অপরাধ করেছি, এটার সঠিক মূল্যায়ন করিনি। এই শিল্প দিয়ে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি।’
গতকাল বুধবার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। এ সময় চামড়াশিল্পের সংকট সমাধানে করণীয় সম্পর্কিত একটি বৈঠক আয়োজনের জন্য নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে এলডিসি থেকে উত্তরণ সম্পর্কিত মোট ১৬টি সিদ্ধান্তের অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চারটি, শিল্প মন্ত্রণালয় তিনটি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ দুটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিনটি ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় চারটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছে।
সাভারে অবস্থিত ট্যানারি ভিলেজে স্থাপিত ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) পূর্ণমাত্রায় চালু করা, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস্তবায়নাধীন এপিআই পার্ক পূর্ণমাত্রায় চালু করা এবং ২০২২ সালে প্রণীত শিল্পনীতি হালনাগাদকরণে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে আলোচনা হয় বৈঠকে।
উচ্চপর্যায়ের কমিটি
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর চার খাতের সক্ষমতা বাড়াতে কী কী করা যেতে পারে তা পর্যালোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৫ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর রপ্তানিনির্ভর সাবসিডি বা নগদ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে না।
এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে কী কী করা যেতে পারে– তা পর্যালোচনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়।
এ কমিটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কিছু সুপারিশ দিয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলো।
এমবি এইচআর