যমুনার চরে নারীর লড়াই
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনার ভাঙনকবলিত চরগুলোতে বদলে যাচ্ছে নারীর জীবনচিত্র।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনার ভাঙনকবলিত চরগুলোতে বদলে যাচ্ছে নারীর জীবনচিত্র। একসময় ঘরোয়া কাজে সীমাবদ্ধ থাকা হাজারো নারী এখন পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার লক্ষ্য নিয়ে পুরুষের পাশাপাশি কৃষিকাজে সমানতালে লড়াই করছেন।
সরেজমিনে নাটুয়ারপাড়া চরে দেখা গেছে—নারীরা বাদাম, ভুট্টা, শাকসবজি লাগানোসহ নানা কৃষিপণ্য উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বামী-সন্তানকে নিয়ে টিকে থাকতে নারীরা এখন কাস্তে, কোদাল হাতে জমিতে কাজ করছেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
রেহাইশুড়িবেড় চরের রেহানা মজিদ জানান, স্বামীর সঙ্গে মিলে তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছেন তারা। বাড়তি শ্রমিক রাখার সামর্থ্য নেই বলে তিনিই স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। দিনমজুর ময়না খাতুন বলেন, সংসার চালাতে এবং মেয়ের পড়ালেখার খরচ যোগাতে প্রতিদিন ৩০০–৫০০ টাকা আয় করেন তিনি। নিজের আয়ের ওপর ভরসা করে এখন আগের তুলনায় ভালোভাবেই চলছে তাদের সংসার।
চরের নারীদের সংগ্রামের সবচেয়ে আলাদা গল্প হালিমার। কম বয়সে বিয়ে, স্বামীর নির্যাতন, বিচ্ছেদ—সব মিলিয়ে জীবন তাকে কঠিন পথেই ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু হালিমা হার মানেননি। নেপিয়ার ঘাস চাষ করে যে ৫০০ টাকা প্রথম আয় করেন, সেটিই বদলে দেয় তার জীবন। ধীরে ধীরে জমি বন্ধক নেন, ঘাসের চাষ বাড়ান, বাড়িতে মুরগির খামার গড়ে তোলেন। এখন তিনি স্বাবলম্বী, কাজ দেন অন্য নারী শ্রমিকদেরও। মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করেছেন, আর পরিবারেও তার কদর বেড়েছে।
চরের নারীদের এ দৃঢ়তার কথা জানিয়ে কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, নারীরা এখন কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং চর উন্নয়ন প্রকল্পের নানা সহায়তা পাচ্ছেন। পরিবারিক পুষ্টিবাগান ও ট্রাইকো কম্পোস্ট তৈরিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী এগিয়ে এসেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরকারি নানা প্রকল্পে চরের নারীরাও পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছেন, যা স্থানীয় নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এমবি/টিআই

