ডাকসু নিয়ে মন্তব্যে জামায়াতি রাজনীতির দেউলিয়াপনা স্পষ্ট : নাছির উদ্দীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকে জামায়াতি রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

Jan 26, 2026 - 17:36
 0  2
ডাকসু নিয়ে মন্তব্যে জামায়াতি রাজনীতির দেউলিয়াপনা স্পষ্ট : নাছির উদ্দীন
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকে জামায়াতি রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ বলে আখ্যায়িত করা শুধু একটি ছাত্র সংসদের প্রতি অবমাননা নয়; বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং দেশের গৌরবোজ্জ্বল উচ্চশিক্ষার ইতিহাসকেই অপমান করার শামিল।

নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ডাকসু এদেশের গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ডাকসুর ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার জামায়াতি রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনারই প্রতিফলন। পাশাপাশি তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে এ ধরনের মন্তব্য স্পষ্টতই পদ্ধতিগত নারী-বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে নারী-বিদ্বেষ, নির্যাতন ও সহিংসতার দাগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। ১৯৭১ সালে এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে এদেশের অসংখ্য নারীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, যদি জামায়াত কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। নারীদের ঘরে বন্দি করা, কর্মক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা এবং প্রতিনিয়ত অবমাননার শিকার করার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, জামায়াত নেতার এমন বক্তব্যের পরেও ডাকসু নেতৃত্বের নীরবতা প্রমাণ করে যে, শিবির-নিয়ন্ত্রিত এই ডাকসু এখন কার্যত জামায়াতের ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাকসুর জন্য চরম লজ্জার।

এছাড়া ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডেরও কঠোর সমালোচনা করেন নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, কখনো বৃদ্ধকে লাঞ্ছিত করা, কখনো শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানো—এ ধরনের অমানবিক ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ কোনো ছাত্র প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা শিবিরের কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান, অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের স্থান নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি ও গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্র—এ কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

এমবি এইচআর