চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে হেনস্তা টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাকসুর কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাকসুর কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার (দুপুর ১২টার দিকে) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
হেনস্তার শিকার শিক্ষকের নাম হাসান মোহাম্মদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর। জানা গেছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় পরিস্থিতি ভালো নয়—এমন তথ্য পেয়ে তিনি কেন্দ্র থেকে বের হলে চাকসু নেতারা তাঁকে তাড়া করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ধরে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মুঠোফোনও তল্লাশি করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ছাত্র শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে জোরপূর্বক নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষককে চিৎকার করতে শোনা যায়।
প্রক্টর অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মব তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধিতা বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি, কাউকে মামলা দিইনি এবং কোনো বহিষ্কার বোর্ডের সদস্যও ছিলাম না।’
অন্যদিকে, চাকসু নেতারা শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, শিক্ষক হাসান মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং প্রশাসনিক তদন্ত চলছিল। তদন্তাধীন অবস্থায় তিনি কীভাবে পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন—সে বিষয়েই তাঁরা জানতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, দৌড়ানোর সময় পড়ে গিয়ে শিক্ষক আহত হন, তাঁকে মারধর করা হয়নি।
ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব প্রসঙ্গে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, সিন্ডিকেট থেকে বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষক পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সে কারণেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর বেতন বন্ধ রয়েছে। তবে কীভাবে তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
এমবি এইচআর

