ডাকসুর কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত একটি কনসার্টে আগত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কনসার্টে ওঠা বিভিন্ন স্লোগান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

Jan 18, 2026 - 14:46
 0  2
ডাকসুর কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে সমালোচনা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত একটি কনসার্টে আগত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কনসার্টে ওঠা বিভিন্ন স্লোগান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত ‘কুয়াশার গান’ শীর্ষক কনসার্টে স্টল বসিয়ে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কনসার্টটির সহ-আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।

বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনাকে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী ধারা ৫(খ) অনুসারে তামাকজাত দ্রব্য কিনতে প্রলুব্ধ করতে বিনামূল্যে বিতরণ বা স্বল্প মূল্যে বিক্রি নিষিদ্ধ। একই আইনের ধারা ৫(গ) অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন বা এর ব্যবহার উৎসাহিত করতে কোনো দান, পুরস্কার বা অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করাও অপরাধ। এসব বিধান লঙ্ঘনের জন্য অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া আইনের ধারা ৬(খ) অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করলে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এই ঘটনায় অভিযোগের তির ছোড়া হচ্ছে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের দিকে। তবে সমালোচনার মুখে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, কনসার্ট আয়োজনে ডাকসুর পক্ষ থেকে কেবল তিনিই যুক্ত ছিলেন, কিন্তু স্পন্সরের সঙ্গে যোগাযোগ, চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণের বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

মোসাদ্দিক আলী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, কনসার্টের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ জানিয়েছিল তারা শুধু একটি ‘স্মোকিং জোন’ স্থাপন করবে, যাতে ধূমপানের কারণে অন্য দর্শকদের সমস্যা না হয়। তিনি বলেন, কনসার্ট চলাকালে গেস্ট ও স্টেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাঠে কী ঘটছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলেও তখন আর কিছু করার সুযোগ ছিল না। তিনি দাবি করেন, স্মোকিং জোনের ভেতরে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হবে—এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

তবে তার এই ব্যাখ্যার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা থামেনি। শিক্ষার্থীরা পৃথক পোস্ট ও মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস ফেসবুকে লেখেন, ‘ডাকসু কি ঢাবি শিক্ষার্থীদের মাদক সেবনে মোটিভেট করে? একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে তথাকথিত অভিযান, অন্যদিকে মাদক সেবনে উৎসাহ—এ কেমন দ্বিচারিতা?’

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার লিখেছেন, ‘এটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্ট। অথচ শুনছি ফ্রি বিড়ি বিতরণ হয়েছে। শিবিরীয় ডাকসুকে বিড়িময় অভিনন্দন—এমন অভূতপূর্ব আয়োজনের জন্য।’

এদিকে কনসার্টে উপস্থিত হয়ে মোসাদ্দিক আলী গণভোটের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। এতে শিক্ষার্থীদের একাংশ ব্যঙ্গাত্মক পাল্টা স্লোগান দেয়, যা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সবশেষে আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া পোস্টে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী পুরো ঘটনাকে ‘সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এমবি এইচআর