যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপের মধ্যে ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ভারত
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই ভারত ও ইইউ এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনার পর এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পক্ষই এটিকে ‘সব চুক্তির জননী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের জনগণের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করবে। তার ভাষায়, এটি বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে প্রতিনিধিত্ব করে।
এই চুক্তি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও ইইউ উভয়ের ওপরই উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বড় অর্থনীতিগুলোকে বিকল্প অংশীদারিত্বের পথে হাঁটতে বাধ্য করছে। বর্তমানে মার্কিন শুল্কনীতির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে রাশিয়ার তেল থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।
মার্কিন উচ্চ শুল্কের প্রভাব কমাতে ভারত রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য করার উদ্যোগ জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি ভারতের বাজারে আরও গভীর প্রবেশাধিকার পাবে। এতে ইউরোপীয় রপ্তানিকারক ও বিনিয়োগকারীরা অস্থির বাজারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। উভয় পক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
ভারতীয় বাণিজ্য বিশ্লেষক অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা যখন ভাঙনের মুখে, তখন এই চুক্তির মূল লক্ষ্য দুই বৃহৎ বাজারের মধ্যে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য পথ তৈরি করা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে। গত এক বছরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ ধারণার আওতায় একাধিক চুক্তি করেছেন। অনেক ইউরোপীয় নেতা এসব উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
ভারতে পৌঁছানোর পর রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উরসুলা ভন ডের লেয়েন লেখেন, ‘আমরা একটি বিভক্ত বিশ্বকে দেখাচ্ছি—আরও একটি পথ খোলা।’
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কনীতি, কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর প্রতি সমর্থন এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় ব্রাসেলস বিশ্বজুড়ে নতুন বাজার ও অংশীদার খোঁজার গতি বাড়িয়েছে।
এমবি এইচআর

