ন্যাশনাল হেরাল্ড কেলেঙ্কারি: রাহুল–সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের নতুন মামলা

ভারতের বহুল আলোচিত ন্যাশনাল হেরাল্ড অর্থ পাচার মামলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার মা দলীয় সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে।

Nov 30, 2025 - 14:33
 0  2
ন্যাশনাল হেরাল্ড কেলেঙ্কারি: রাহুল–সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের নতুন মামলা
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ভারতের বহুল আলোচিত ন্যাশনাল হেরাল্ড অর্থ পাচার মামলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার মা দলীয় সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের আর্থিক অপরাধ শাখা ইকনমিক অফেন্স উইং (ইওডব্লিউ) এ সংক্রান্ত নতুন এফআইআর দায়ের করেছে, যেখানে ছয়জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এফআইআরে রাহুল ও সোনিয়া ছাড়াও অভিযুক্ত হয়েছেন স্যাম পিত্রোদা, মতিলাল ভোরা, অস্কার ফার্নান্দেজ, সুমন দুবে এবং প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল), ইয়ং ইন্ডিয়ান ও কলকাতাভিত্তিক কথিত শেল কোম্পানি ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ প্রাইভেট লিমিটেড।

ইওডব্লিউ সূত্রে জানা যায়, শেল কোম্পানি ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ং ইন্ডিয়ানকে ১ কোটি রুপি দেয়। আর সেই লেনদেনকে হাতিয়ার করে ইয়ং ইন্ডিয়ান মাত্র ৫০ লাখ রুপিতে প্রায় দুই হাজার কোটি রুপির এজেএলের নিয়ন্ত্রণ নেয়—এমন অভিযোগই নতুন এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইয়ং ইন্ডিয়ানের ৭৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক রাহুল ও সোনিয়া গান্ধী।

ইডির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ধারা ৬৬(২) অনুযায়ী, ইডি সম্ভাব্য অপরাধে অন্য তদন্ত সংস্থাকে মামলা করার নির্দেশ দিতে পারে। দিল্লির আদালতে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার শুনানি ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার পরদিনই এফআইআরটি প্রকাশ্যে আসে।

মামলার সূত্রপাত ২০১২ সালে, যখন বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী অভিযোগ করেন—প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে কংগ্রেস নেতারা এজেএলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছেন। এজেএলই একসময় প্রকাশ করত ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ন্যাশনাল হেরাল্ড, যা ১৯৩৮ সালে জওহরলাল নেহেরু ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০০৮ সালে আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া ন্যাশনাল হেরাল্ড উদ্ধার করতে কংগ্রেস এজেএলকে ৯০ কোটি রুপি ঋণ দেয়, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তা ইকুইটিতে রূপান্তর করা হয়। এরপর ওই শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তরিত হয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ং ইন্ডিয়ানের কাছে, যার মধ্য দিয়ে রাহুল–সোনিয়া কোম্পানির পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন।

ন্যাশনাল হেরাল্ড–সংক্রান্ত লেনদেন নিয়ে ইডি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে আসছে। কংগ্রেসের দাবি, এ মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিজেপির ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’।

এমবি এইচআর