রুশ তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, বিকল্প সরবরাহ খুঁজছে ভারতের তেল জায়ান্টরা

রাশিয়ার দুটি প্রধান জ্বালানি কোম্পানি রোসনেফ্ট ও লুকোয়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিকল্প তেলের উৎস খুঁজছে ভারতের বৃহত্তম তেল কোম্পানিগুলো।

Oct 25, 2025 - 14:51
 0  2
রুশ তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, বিকল্প সরবরাহ খুঁজছে ভারতের তেল জায়ান্টরা
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

রাশিয়ার দুটি প্রধান জ্বালানি কোম্পানি রোসনেফ্ট ও লুকোয়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিকল্প তেলের উৎস খুঁজছে ভারতের বৃহত্তম তেল কোম্পানিগুলো। বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করে, যার বেশিরভাগই আসে এই দুই কোম্পানির মাধ্যমে।

নির্ধারিত সময়সীমা ২১ নভেম্বর শেষ হওয়ার পর ভারতকে এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। ফলে ডিসেম্বর থেকে রুশ তেল আমদানিতে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ দেশটির মোট তেল আমদানির এক-তৃতীয়াংশই আসে রাশিয়া থেকে।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি দাম ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ৬৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামসহ বড় তেল কোম্পানিগুলো সৌদি আরব, ইরাক, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা শুরু করেছে। রিলায়েন্স ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে এবং নতুন সরবরাহ চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল হতে পারে। কপলার বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে দুই মাসের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ গুজরাটের জামনগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোম্পানি সব আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে চলবে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোনো কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করবে না।

তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রুশ তেল পুরোপুরি ভারতীয় বাজার থেকে হারিয়ে যাবে না। মধ্যস্থতাকারী বা নিষেধাজ্ঞামুক্ত বিক্রেতাদের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ তেল আমদানি অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও এতে স্বচ্ছতা কমবে এবং খরচ বাড়বে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার পথে যাচ্ছে না। ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতের জ্বালানি মিশ্রণে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

এমবি এইচআর