বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে না পারার অভিযোগ, বিয়ে গড়াল আদালতে

বিয়ের আয়োজন, নতুন জীবনের স্বপ্ন—সবই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। বর রায়হান কবিরের অভিযোগ, যাকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে বসে থাকা নববধূ সেই নারী নন; তিনি অন্য কেউ।

Jan 20, 2026 - 12:16
 0  2
বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে না পারার অভিযোগ, বিয়ে গড়াল আদালতে
ছবি, সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

বিয়ের আয়োজন, নতুন জীবনের স্বপ্ন—সবই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। বর রায়হান কবিরের অভিযোগ, যাকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে বসে থাকা নববধূ সেই নারী নন; তিনি অন্য কেউ। এই অভিযোগ ঘিরেই বিয়ের আনন্দ পরিণত হয় সন্দেহ, উত্তেজনা ও মামলার জটিলতায়।

‘কনে বদল’–এর এই ঘটনা এখন ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়, শেষ পর্যন্ত বরকে যেতে হয় কারাগারেও।

গত বছরের ১ আগস্ট জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে একই জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বর ও তার পরিবার কনে বদলের অভিযোগ তোলে। ঘটনাটি মীমাংসার জন্য একাধিকবার দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এর জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে পাল্টা মামলা করেন।

উভয়পক্ষের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বর রায়হান কবিরের মামা বাদল সাংবাদিকদের জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে ঘটক একটি মেয়েকে দেখান। মেয়েটিকে পছন্দ হলে তা জানানো হয়। পরে মেয়েপক্ষ ছেলেপক্ষের বাড়িতে এসে নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই দ্রুত বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায়।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। কিন্তু বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারে, সে যে মেয়েকে বিয়ে করেছে সে অন্য কেউ। ২ আগস্ট কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে প্রতারণার কারণ জানতে চাওয়া হয়। তাদের দাবি, ঘটক ও কনের বাবা পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনের বাবা জিয়ারুল হক বলেন, তার তিন মেয়ের মধ্যে মেজো মেয়েকেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের আগে ছেলেপক্ষ বাড়িতে এসে মেয়ে দেখে গেছে এবং বিয়েতে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিলেন। এমন অবস্থায় কনে বদলের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের পরদিনই ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সময় দিতে রাজি না হওয়ায় এখন তাকে হেয় করতে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘটক মোতালেব বলেন, তিনি অন্য কোনো মেয়ে দেখাননি এবং মেয়ে দেখানো হয়েছিল মেয়ের বাবার বাড়িতেই।

ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, ছেলেপক্ষের অভিযোগ—মেয়েপক্ষ ও ঘটক মিলে কনে বদলের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে। বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমবি এইচআর