৩ সিটি করপোরেশন দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে চায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

Feb 19, 2026 - 11:36
 0  1
৩ সিটি করপোরেশন দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ছবি- সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে চায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে ইসির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই তিন সিটির নির্বাচন শেষে পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন এবং পাশাপাশি জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ ও ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন

ইসি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সে সময় তিন বড় সিটি করপোরেশন—ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রামে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকার সম্মতি দেয়নি।

আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন; সেই হিসাবে গত বছরের ১ জুন এ সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন; এ সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি; আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। ফলে এই তিন সিটিতে নির্বাচন আয়োজনকে সবচেয়ে জরুরি হিসেবে দেখছে ইসি।

ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে। চট্টগ্রাম সিটির জন্য সময় সীমিত হওয়ায় সেখানে আলাদা জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, তাদের মূল দায়িত্বই নির্বাচন আয়োজন করা। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোবেন তারা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।

এমবি এইচআর