চট্টগ্রামে থানা লুটের অস্ত্রেই চলছে ছিনতাই-চাঁদাবাজি
চট্টগ্রামে বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া অস্ত্র এখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও খুনসহ নানা অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পেশাদার অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেই তাদের কাছ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামে বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া অস্ত্র এখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও খুনসহ নানা অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পেশাদার অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেই তাদের কাছ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার অন্তত ১০টি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে প্রায় দেড়শ পিস্তল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব অস্ত্র এখনো সন্ত্রাসীদের হাতেই রয়েছে।
গত এক বছরে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে এক ডজনের বেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ ১০ মার্চ নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্য মনিরুল হকের কাছ থেকে ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আল-ফালাহ গলির একটি বাসা থেকে অত্যাধুনিক এসএমজি ও গুলিও জব্দ করা হয়।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার এসআই বাহার মিয়া জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে তারা নগরীতে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো আদালতের অনুমতি নিয়ে আবার সরকারি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ২০২৪ চট্টগ্রাম থানা লুট-এর সময় চট্টগ্রাম নগরীর ১৬টি থানার মধ্যে ৮টি থানা ও ৮টি ফাঁড়ি থেকে মোট ৯৪৫টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮০০টি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বিপুলসংখ্যক অস্ত্র এখনও নিখোঁজ।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও থানা লুটের ঘটনা ঘটে। যেমন—রাউজান, লোহাগাড়া, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র পরে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
বিভিন্ন অভিযানে ইতোমধ্যে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রাউজানে পুকুর থেকে চায়নিজ রাইফেল ও শটগান, সাতকানিয়ায় নিহত এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, লোহাগাড়ায় গ্রেপ্তার এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
এমবি এইচআর

