ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ওমানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

Feb 7, 2026 - 14:30
 0  2
ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা
ছবি- সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

ওমানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী মাসকটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনের ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির তেল পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ পদক্ষেপ ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

ওমানে ইরান ইস্যুতে হওয়া আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ওমানে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইরানও আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তেহরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে বলে তারা আশাবাদী। উপসাগরীয় দেশ ওমানে এক দিনের এই আলোচনায় ‘ইতিবাচক পরিবেশ’ ছিল বলেও উল্লেখ করেছে ইরান।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল মার্কিন নৌবহর মোতায়েন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নৌবহরটি এখনো ইরানের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় মাসকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ আলোচনা সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক নয়, বরং পরোক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘটনার পর এটিই দুই বৈরী দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আমরা আবার বৈঠকে বসব।’

তবে এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে তার পরিণতি হবে ‘খুবই কঠোর’।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই ওমানে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিতে মাসকটে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার।

এমবি এইচআর