গোপন বাণিজ্য চুক্তি মানার বার্তা নিয়ে ঢাকায় আসছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড—আর্ট) বাস্তবায়নের বার্তা নিয়ে তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস পল কাপুর।
জানা গেছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসবেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছে পরদিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন রাতে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ মার্চ একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন পল কাপুর। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ইফতার ও নৈশভোজেও অংশ নেবেন তিনি। ৬ মার্চ ভোরে তাঁর ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এবারের সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি, শ্রম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন এই প্রতিনিধি। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায়, যেখানে আর্ট চুক্তি, মার্কিন বাণিজ্য নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
এর আগে সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। তবে চলতি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বজুড়ে পাল্টা শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ বাতিল করলেও সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা বহাল রয়েছে বলে ওয়াশিংটনের অবস্থান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ভারসাম্যহীন এবং এতে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত কয়েকটি ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন, নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করা কৌশলগতভাবে সঠিক হয়নি। দরকষাকষির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান নিতে পারেনি বলে তাদের পর্যবেক্ষণ।
চুক্তির ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বাংলাদেশকেও তা অনুসরণ করতে হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম বা জ্বালানি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। পর্যালোচনা শেষে সরকারের করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চুক্তিটি বাণিজ্যিকের চেয়ে রাজনৈতিক মাত্রাই বেশি বহন করছে। তারা বলছেন, চুক্তি থেকে বের হতে চাইলে বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে এবং তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিতর্কিত ধারাগুলো পুনর্বিবেচনায় নতুন করে আলোচনার পথ খোঁজাই হতে পারে বাংলাদেশের বাস্তবসম্মত কৌশল।
এমবি এইচআর

