মাদক সাম্রাজ্যে ১,৬২০ গডফাদার, জড়িত ২০ হাজারের বেশি কারবারি

দেশজুড়ে বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্কে অন্তত ১ হাজার ৬২০ জন ‘গডফাদার’ সক্রিয় রয়েছে। তিন স্তরের এই সিন্ডিকেটে মোট কারবারির সংখ্যা ২০ হাজার ৮৯১ জন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত প্রতিবেদন।

Apr 12, 2026 - 11:23
 0  4
মাদক সাম্রাজ্যে ১,৬২০ গডফাদার, জড়িত ২০ হাজারের বেশি কারবারি
ছবি- সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

দেশজুড়ে বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্কে অন্তত ১ হাজার ৬২০ জন ‘গডফাদার’ সক্রিয় রয়েছে। তিন স্তরের এই সিন্ডিকেটে মোট কারবারির সংখ্যা ২০ হাজার ৮৯১ জন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত প্রতিবেদন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাজার কোটি টাকার এই অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে একটি শক্তিশালী অদৃশ্য চক্র, যার কারণে মাদকের ছোবল থেকে মুক্তি মিলছে না।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্ক তিন স্তরে বিভক্ত—গডফাদার, পাইকারি ও খুচরা কারবারি। এর মধ্যে গডফাদার ১,৬২০ জন, পাইকারি কারবারি ৬,২২৭ জন এবং খুচরা পর্যায়ে সক্রিয় ১৩,০৪৪ জন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি গডফাদার রয়েছে চট্টগ্রাম-এ (৩০৯ জন)। এরপর রাজশাহী (২৭৩), রংপুর (২৩৭), ঢাকা (২৩১), খুলনা (২২৮), বরিশাল (১১৭), ময়মনসিংহ (১১৫) এবং সিলেট (১১০)।

পাইকারি ও খুচরা কারবারিতেও শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। পাইকারিতে সেখানে ১,৪২৭ জন এবং খুচরা পর্যায়ে ২,৮২৮ জন সক্রিয়। রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারবারি রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে গডফাদারদের পাশাপাশি অর্থ লগ্নিকারী, পৃষ্ঠপোষক এবং গাঁজা চাষিদের আলাদা তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পৃথক তালিকায়ও বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে—পুলিশের তালিকায় ১৯ হাজার ৪৫ জন, আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর তালিকায় ৩,৯৬৪ জনের নাম রয়েছে।

বিশেষভাবে মাদক কারবারের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে টেকনাফ এলাকা। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বড় চালান প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া কক্সবাজারকুমিল্লা জেলাও মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সাফল্য আসছে না, ফলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ অভিযান, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং শীর্ষ কারবারিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরবরাহ চেইন ভাঙার চেষ্টা চলছে। তবে অপারেশনাল সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তালিকা তৈরি বা বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, মূল সমস্যার জায়গায় আঘাত না করলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

এমবি এইচআর