দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জে প্রস্তুত ফুজিয়ান
চীনের নৌক্ষমতা সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হলো। দেশটির তৃতীয় ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনা নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
চীনের নৌক্ষমতা সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হলো। দেশটির তৃতীয় ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনা নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমুদ্র পরীক্ষার পর শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রণতরীটি বহরে যুক্ত করার খবর প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
‘ফুজিয়ান’-এর নামকরণ করা হয়েছে তাইওয়ানের বিপরীত উপকূলে অবস্থিত চীনা প্রদেশ ‘ফুজিয়ান’-এর নামে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ হাইনান প্রদেশের সানিয়া শহরে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর সদস্য ও রণতরী নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত দুই হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
ফুজিয়ান হলো চীনের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মিত বিমানবাহী রণতরী। এর আগে চীন রাশিয়ান নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘লিয়াওনিং’ ও ‘শানডং’ রণতরী ব্যবহার করছিল। তবে ফুজিয়ান প্রযুক্তিগতভাবে অনেক এগিয়ে। এতে রয়েছে সমতল ফ্লাইট ডেক এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপাল্ট সিস্টেম—যা যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড-শ্রেণির রণতরী ছাড়া আর কোনো দেশের নৌবাহিনীর নেই।
এই প্রযুক্তির কারণে ফুজিয়ান একসঙ্গে আরও বেশি যুদ্ধবিমান বহন করতে এবং ভারী অস্ত্রসজ্জিত বিমান পরিচালনা করতে সক্ষম। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রণতরীটি থেকে জে-৩৫ স্টেলথ ফাইটার, কেজে-৬০০ সতর্কীকরণ বিমান এবং জে-১৫ ফাইটার জেটের নতুন সংস্করণ সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে।
ফুজিয়ান নিজস্ব নজরদারি বিমানের মাধ্যমে দূরসমুদ্রে অভিযান চালাতে পারবে, যা চীনের পূর্বের দুই রণতরীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। যদিও এটি সম্পূর্ণ যুদ্ধ-সক্ষম হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অন্যতম বড় সাফল্য।
শি জিনপিং আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে আধুনিক সামরিক বাহিনী এবং ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের “বিশ্বমানের” বাহিনী গঠন তার লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তারে ফুজিয়ান হবে চীনের কৌশলগত প্রধান অস্ত্র।
এমবি এইচআর

