বোয়িংয়ের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ২৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ফেডারেল আদালত বোয়িং কোম্পানিকে ২০১৯ সালে ইথিওপিয়ায় ঘটে যাওয়া ৭৩৭-ম্যাক্স উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত জাতিসংঘের এক নারী কর্মীর পরিবারকে ২৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার সমান।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ফেডারেল আদালত বোয়িং কোম্পানিকে ২০১৯ সালে ইথিওপিয়ায় ঘটে যাওয়া ৭৩৭-ম্যাক্স উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত জাতিসংঘের এক নারী কর্মীর পরিবারকে ২৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার সমান।
বুধবার (১২ নভেম্বর) এই রায় দেন আদালত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
নিহত শিখা গার্গের পরিবারের পক্ষে দেওয়া এই রায়টি ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়া এবং ২০১৯ সালে ইথিওপিয়ায় সংঘটিত দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দায়ের করা অসংখ্য মামলার মধ্যে প্রথম রায়। ওই দুই দুর্ঘটনায় মোট ৩৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
রায়ের পর উভয় পক্ষের মধ্যে হওয়া এক চুক্তি অনুযায়ী, গার্গের পরিবার মোট ৩৫.৮৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে। এতে আদালতের নির্দেশিত অর্থের সঙ্গে ২৬ শতাংশ সুদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পরিবারের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বোয়িং এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে না।
বোয়িং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় যেসব পরিবার প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বেশিরভাগ দাবি ইতোমধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তবে পরিবারগুলো আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ চাইলে তারা সেই অধিকারকে সম্মান জানায়।
পরিবারের আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায় বোয়িংয়ের অবহেলাজনিত কর্মকাণ্ডের দায় নিশ্চিত করেছে।
৩২ বছর বয়সী শিখা গার্গ ২০১৯ সালের ১০ মার্চ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩০২-এ ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে কেনিয়ার নাইরোবি যাচ্ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বোয়িংয়ের তৈরি ৭৩৭-ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজে নকশাগত ত্রুটি ছিল এবং কোম্পানি যাত্রী ও জনগণকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যথাসময়ে সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, ইথিওপিয়ান ফ্লাইট দুর্ঘটনার পাঁচ মাস আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের একই মডেলের উড়োজাহাজ জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। উভয় দুর্ঘটনাতেই স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (অটোপাইলট) ত্রুটি মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, বোয়িং এখন পর্যন্ত এই দুই দুর্ঘটনাসংক্রান্ত ৯০ শতাংশেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি করেছে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
সম্প্রতি, চলতি মাসের ৫ নভেম্বর, কোম্পানিটি ইথিওপিয়ান ফ্লাইট দুর্ঘটনায় নিহত আরও তিন যাত্রীর পরিবারের মামলা নিষ্পত্তি করেছে, যদিও ক্ষতিপূরণের অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।
এমবি এইচআর

