‘দীপুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই’: বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রথম বিবৃতি, ঢাকাকে যে বার্তা দিল নয়াদিল্লি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

Dec 21, 2025 - 17:06
 0  3
‘দীপুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই’: বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রথম বিবৃতি, ঢাকাকে যে বার্তা দিল নয়াদিল্লি
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

রোববার ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। এ বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও বজায় রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিষয়টি আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে—এই আবেদন ভারত জানিয়েছে।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে ভুয়া ও অতিরঞ্জিত খবর প্রচার করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি জানান, শনিবার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন যুবক জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দীপু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, ওই বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসে জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো চেষ্টা করেননি। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি জানান, ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত সব বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর তাঁর মরদেহ প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

এমবি এইচআর