আজ সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীর প্রয়াণ দিবস
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীর প্রয়াণ দিবস আজ। ২০০৭ সালের এই দিনে মাত্র ৪২ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জন্ম নেওয়া সঞ্জীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বাংলা ব্যান্ড সংগীতে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করা ব্যান্ড ‘দলছুট’–এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। বাপ্পা মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে গড়া এই ব্যান্ড ১৯৯৭ সালে প্রকাশ করে প্রথম অ্যালবাম ‘আহ্’, যা ব্যান্ডসংগীতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পরবর্তী অ্যালবামগুলো—
‘হৃদয়পুর’ (২০০০), ‘আকাশ চুরি’ (২০০২), ‘জোছনা বিহার’ (২০০৭)—দলছুটকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায়’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘তোমাকেই বলে দেব’—এমন বহু গান আজও তরুণ–বয়স্ক সবার হৃদয়ে সমানভাবে বাজে। সঞ্জীবের কণ্ঠের সরলতা, আন্তরিকতা এবং তাঁর গানের কথায় শহুরে একাকিত্ব, স্মৃতি, প্রেম ও জীবনের অনুষঙ্গগুলো শ্রোতাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
সংগীতজীবনের পাশাপাশি সঞ্জীব ছিলেন একজন অনন্য সাংবাদিক—মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতিবোধ ছিল তাঁর লেখার কেন্দ্রে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সরব ও সক্রিয়।
২০০৫ সালে প্রকাশিত তাঁর একক অ্যালবাম ‘স্বপ্নবাজি’ তাঁর ব্যক্তিগত শিল্প–দৃষ্টিভঙ্গির অনন্য প্রকাশ।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হওয়ার পর দুই দিন মৃত্যু–সংগ্রাম শেষে ১৯ নভেম্বর তিনি চলে যান। মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দান করা হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজে—মানবতার সেবায় তাঁর শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে।
বাংলা সংগীতের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র সঞ্জীব চৌধুরীর স্মৃতি আজও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ভক্ত–গুণমুগ্ধরা।
এমবি/এসআর

