মৃত্যুর পরও ভাইয়ের হাত ছাড়েনি বোন, ৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে একই পরিবারের দুই ভাই–বোনসহ চার শিশু। নদীতে নৌকা ভাসিয়ে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে ডুবে মারা যায় তারা।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে একই পরিবারের দুই ভাই–বোনসহ চার শিশু। নদীতে নৌকা ভাসিয়ে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে ডুবে মারা যায় তারা। উদ্ধারকালে দেখা যায়, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া বোন পলি আক্তার (১২) মৃত্যুর পরও ভাই আবু হাসানকে (৮) জড়িয়ে ধরে রেখেছিল।
শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে চরভাটিয়ানী এলাকার কাটাখালী নদী থেকে সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে এক শিশু—বৈশাখী আক্তার (১১)।
নিহতরা হলেন—প্রবাসী দুদু মিয়ার ছেলে আবু হাসান (৮), মেয়ে পলি আক্তার (১২), তাঁদের ফুফাতো বোন ছায়েবা আক্তার (১২) এবং আজাদের মেয়ে কুলসুম আক্তার (১২)।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে পাঁচ শিশু কাটাখালী নদীতে নৌকা ভাসিয়ে খেলছিল। একপর্যায়ে আবু হাসান নৌকা থেকে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে পলি ঝাঁপ দেয়। এরপর একে একে সবাই পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে উদ্ধার অভিযানে নেমে একে একে চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত পলির এক আত্মীয় বলেন, “পলি তার ভাইকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতায় সে নিজেও ডুবে যায়। মৃত্যুর পরও সে ভাইয়ের গলায় হাত জড়িয়ে রেখেছিল।”
নিখোঁজ বৈশাখীর পরিবারের সদস্যরা জানান, তার ভাইয়ের শুক্রবার বিয়ে ছিল। দুপুরে গোসল করতে গিয়ে নদীতে অন্যদের সঙ্গে খেলায় যোগ দিয়েছিল বৈশাখী, এরপর থেকেই সে নিখোঁজ।
জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, “চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ এক শিশুকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান চলছে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এমবি এইচআর

