গাজার কান্না কেন বিশ্বকে নাড়া দেয় না?
গাজায় তোলা নিহত শিশুরা, ভাঙচুর করা পরিবারগুলো ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক্ষায় থাকা বন্দিদের আহাজারি—এসব দৃশ্যকে বিশ্বের বড় রাজনৈতিক মঞ্চে প্রাসঙ্গিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ হচ্ছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
গাজায় তোলা নিহত শিশুরা, ভাঙচুর করা পরিবারগুলো ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক্ষায় থাকা বন্দিদের আহাজারি—এসব দৃশ্যকে বিশ্বের বড় রাজনৈতিক মঞ্চে প্রাসঙ্গিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ হচ্ছে। শার্ম আল-শেখে শান্তি, মধ্যস্থতায় আলোচনা ও হাসিমুখে চিত্রগ্রহণের ফ্রেমের বাইরে গাজার বাস্তব জীবনের অশান্তি ও দুঃখ-ব্যথা যেন ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
নির্যাতন, অবরোধ ও পুনঃবোমাবর্ষণের ধারাবাহিকতায় গাজার সাধারণ মানুষ এখন নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের মৌলিক অধিকার — খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় — এর জন্যও অতিমাত্রায় ঝুঁকিতে রয়েছেন। যুদ্ধবিরতির শখের মধ্যেই কখনো কখনো গাড়ি, বাড়ি ও হাসপাতালের পাশে নতুন মৃতদেহ গাঁথা হচ্ছে। বন্দি মুক্তির খবরে আনন্দের মুহূর্ত দেখা গেলেও একই সময়ে অনেক পরিবার অপূরণীয় ক্ষতি ও নিঃশব্দ শোকের মধ্যে পড়ে যায়।
বহু বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষক বলছেন, তথ্য-প্রচারণা ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে ফিলিস্তিনিদের মানবিক বিপর্যয়কে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কিছু ঘটনার চিত্রায়ণ ও বর্ণনা বিশদভাবে প্রকাশ পেলেও গাজার লক্ষ লক্ষ নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি কষ্ট, শহীদ-পরিবারের অবহেলা এবং নির্দিষ্ট ঘটনায় দোষীকে দায়বদ্ধ করে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া অনেক সময় সংকীর্ণ বা অনুপস্থিত থাকে।
বিশ্বনেতারা কেবল কূটনৈতিক মঞ্চে শুভেচ্ছা বা বিবৃতি দেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় কীভাবে তা কর্মতৎপরতায় রূপান্তরিত হবে—এই প্রশ্ন এখন তীব্রভাবে উঠছে। পুনর্গঠন, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা-সহ ফিলিস্তিনিদের টেকসই স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমাজকে তৎপর ও ধারাবাহিক ভূমিকা নিতে অনেকে জোর দাবি করছেন। একই সঙ্গে বলা হচ্ছে, শুধু আলোচনাই নয়, সংঘটিত মানবিক লঙ্ঘন ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহিতাও জরুরি।
গাজায় প্রত্যেক নীরব কবর, প্রত্যেক অনাহারিত শিশু এবং প্রত্যেক বিচ্ছিন্ন পরিবারের পিছনে যে মানবিক এবং রাজনৈতিক ত্রাস কাজ করছে, তাদের কণ্ঠস্বরকে বিশ্ব মঞ্চে পুনরুদ্ধার করাই এখন অতীব প্রয়োজন।
এমবি এইচআর

