ইরান উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিমানবাহী রণতরীসহ বড় সামরিক বহর দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিমানবাহী রণতরীসহ বড় সামরিক বহর দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, যার মূল শক্তি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী, ইতোমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর ত্যাগ করেছে। বহরে রণতরীর পাশাপাশি ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, সাবমেরিনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বহর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মোট ২১টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাই এই রণতরী মোতায়েনের প্রধান কারণ। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের বার্তা দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি থেকে সতর্কতামূলকভাবে সামরিক সদস্য ও কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় ইরান বাণিজ্যিক বিমানের জন্য তার আকাশপথ আংশিকভাবে বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে। এতে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ফলে বাস্তব পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমবি এইচআর

