আগুন দেওয়ার সন্দেহে খুঁটিতে বেঁধে আ. লীগ নেতার ছেলেকে পিটুনি

নাটোরে খড় ও পাটকাঠির পালায় আগুন দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

Nov 16, 2025 - 17:33
 0  3
আগুন দেওয়ার সন্দেহে খুঁটিতে বেঁধে আ. লীগ নেতার ছেলেকে পিটুনি
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

নাটোরে খড় ও পাটকাঠির পালায় আগুন দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। যাচাই-বাছাই শেষে জানা যায়, আটক নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় ৪টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার চৌগাছি মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক নাজমুল হোসেন কাফুরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও চৌগাছি গ্রামের ইটভাটা ব্যবসায়ী আবদুল খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত গ্রামের অন্তত সাতটি স্থানে খড় ও পাটকাঠির পালায় আগুন দেওয়া হয়। রাতের অন্ধকারে নির্জন স্থানে এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেউই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না।

রবিবার ভোরে নাজমুল হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি করার সময় তাকে সন্দেহভাজন মনে করে স্থানীয়রা আটক করেন এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

চৌগাছি মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর বলেন, “গ্রামে কে বা কারা আগুন দিচ্ছে, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। বাধ্য হয়ে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করি। পাহারাদারদের সন্দেহ হলে তারা নাজমুলকে আটক করে।”

বাঁধা অবস্থায় নাজমুল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি নির্দোষ। মোটরসাইকেল নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম। আমি ইটভাটা ব্যবসায়ী, আমি কেন আগুন লাগাতে যাব?”

সদর থানার ওসি মাহবুর রহমান বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগে নাজমুলকে থানায় আনা হয়। পরে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।”

এমবি এইচআর