তীব্র রপ্তানি সংকট, পোশাক খাতে ধস

Nov 10, 2025 - 12:54
 0  2
তীব্র রপ্তানি সংকট, পোশাক খাতে ধস

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্ট থেকে দেশের রপ্তানি খাত ধীরগতিতে চলছে। অক্টোবর মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৭ শতাংশ কমেছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। আয় কমার পাশাপাশি ক্রেতাদের অর্ডারও নিম্নমুখী।

অক্টোবরে রপ্তানি আদেশ আগের মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ কমে ৩৯ কোটি ডলারে নেমেছে। এক ডলার ১২২ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় এ পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। রপ্তানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের প্রভাব প্রধান কারণ। চীনের বিকল্প বাজারে আগ্রাসী রপ্তানি এবং ইউরোপে কম দামে পণ্য পাঠানোও বাংলাদেশের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে রপ্তানি কমেছে ৩৯২ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ৩৬৩ কোটি ডলার এবং অক্টোবর ৩০২ কোটি ডলার। বিশেষ করে পোশাক রপ্তানি কমেছে, আগস্টে ৩১৭ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৮৪ কোটি ডলার, এবং অক্টোবর ৩০২ কোটি ডলার।

রপ্তানি আদেশের উপর নজর রাখা ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে মোট আদেশ কমেছে ৩৯ কোটি ডলার। ঢাকা অঞ্চলের কারখানার আদেশ আগের মাসের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমে ২১০ কোটি ডলার এবং চট্টগ্রামের কারখানার আদেশ কমেছে ২৬ শতাংশ, ১০ কোটি ৩৮ লাখ ডলারে নেমেছে।

বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন এবং সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, চীনের আগ্রাসী রপ্তানি এবং অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের প্রস্তুতির অভাব এই সংকটের মূল কারণ। বিশেষ করে নেভার আউট অব স্টক (এনওএস) ধরনের পণ্যে চীনের দ্রুত উৎপাদন ও কম দামের কৌশল বাংলাদেশের রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে।

বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইইউ বাংলাদেশের মূল রপ্তানি বাজার। ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে যা ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ০.৭৭ শতাংশ, এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৯ শতাংশ।

রপ্তানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, অর্ডেশর কমা ও ক্রেতাদের অনিশ্চয়তার কারণে পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানি আরও সংকটে পড়তে পারে।

এমবি/এসআর