খুলনা-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তীব্র বিরোধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর–সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে গভীর বিভক্তি। সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মনোনীত প্রার্থী এখনো প্রচার শুরু করতে পারেননি।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর–সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে গভীর বিভক্তি। সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মনোনীত প্রার্থী এখনো প্রচার শুরু করতে পারেননি। মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের দুই গ্রুপের দ্বিধাবিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও বর্তমান নগর নেতৃত্ব ও তাদের অনুসারীরা বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তৃণমূলে অনেকে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন। ফলে ঘোষণার পরেও নির্বাচনী মাঠে ঐক্যের বদলে সন্দেহ ও শীতলতা বিরাজ করছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বর্তমান মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। কেন্দ্রে বৈঠকে ডাকা হলেও শেষ পর্যন্ত নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নামই ঘোষণা করা হয়। সেই থেকেই অসন্তোষ বাড়তে থাকে নগর নেতৃত্বের মাঝে।
জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিলেও এখনো নজরুল ইসলামের সঙ্গে নগর নেতাদের সরাসরি আলোচনাই হয়নি। এমনকি ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষেও দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি পালন করে।
বিরোধ মেটাতে জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল মাঠে নেমেছেন। শুক্রবার রাতে কেডি ঘোষ রোডের কার্যালয়ে তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বর্তমান নগর কমিটির নেতারা নজরুল ইসলামের প্রার্থিতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তোলেন। কেউ কেউ জিয়া পরিবারের কাউকে কিংবা বকুলকেই প্রার্থী করার প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন তৃণমূলে সক্রিয় ছিলেন না, সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগও রাখেননি, এমনকি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার ঘটনাও রয়েছে। বকুল নেতাদের অভিযোগ শুনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
খুলনা সদর থানা বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন কবির জানান, বৈঠকে সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি, ১৬ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।
সূত্র বলছে, ২০২১ সালে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর রাজনৈতিক জীবনে মোড় পরিবর্তনের ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। মহানগরের নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান না পেয়ে তিনি প্রতিবাদ করেন এবং পরে শোকজের মুখে পড়েন। এরপর থেকে দুই গ্রুপ আলাদা অবস্থান ধরে রাখে এবং কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করে আসছে।
এ অবস্থায় খুলনা-২ আসনে বিএনপির দ্বন্দ্ব কমার কোনো লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে না— বরং তা নির্বাচনী মাঠে আরও জটিল করে তুলছে।
এমবি এইচআর

