খুলনা নগরীতে আধিপত্য যুদ্ধে আতঙ্কে নগরবাসী

Nov 9, 2025 - 11:07
 0  3
খুলনা নগরীতে আধিপত্য যুদ্ধে আতঙ্কে নগরবাসী

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি :

খুলনা মহানগরীতে দিন দিন বেড়ে চলেছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। খুন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ত্রস্ত হয়ে পড়েছে নগরবাসী। সম্প্রতি একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও বোমা হামলার ঘটনায় উঠে এসেছে চারটি সক্রিয় সন্ত্রাসীচক্রের নাম—আশিক, নূর আজিম, হুমা ও গ্রেনেড বাবু চক্র।

গত ৬ অক্টোবর রাতে নগরীর ২ নম্বর কাস্টমঘাটে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় স্থানীয় যুবক ইমরান মুন্সিকে (৩৫)। পরে জানা যায়, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল ‘পলাশ চক্র’, আর নিহত ইমরান ছিলেন ‘গ্রেনেড বাবু চক্রের’ সদস্য।

এরপর ২ নভেম্বর আড়ংঘাটা থানার যোগীপোলে বিএনপি কার্যালয়ে বোমা হামলা, গুলি ও হত্যার ঘটনায়ও উঠে আসে একাধিক চক্রের নাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনা শহরে অন্তত ১২টি সন্ত্রাসীচক্র সক্রিয়। তবে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে আশিক, নূর আজিম, হুমা ও গ্রেনেড বাবু চক্র।

আশিক চক্র

চানমারী এলাকার বাসিন্দা আশিক ২০১৮ সালে প্রথম হত্যা মামলায় জড়িয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ১২টি মামলা। দলে রয়েছে ২৫–২৬ জন সদস্য। সহযোগী ফয়সালসহ সবাই বিভিন্ন থানার একাধিক মামলার আসামি। আশিকের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবার এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

নূর আজিম চক্র

টুটপাড়া এলাকার শেখ নূর আজিম কিশোর গ্যাং গঠন করে ২০১৬ সালে সন্ত্রাসে যুক্ত হন। তাঁর বিরুদ্ধেও ১২টির বেশি মামলা রয়েছে। এই চক্রটি অস্ত্রের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে জানিয়েছে পুলিশ। দৌলতপুরে একাধিক হত্যা, কুপিয়ে জখম ও প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় এই চক্রের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

হুমা চক্র

হুমায়ুন কবির হুমা (৩৭) দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর চলতি জুলাইয়ে জামিনে বেরিয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও শিক্ষক ইমদাদুল হক হত্যাকাণ্ডে তাঁর নাম উঠে এসেছে।

গ্রেনেড বাবু চক্র

দীর্ঘদিন ধরে নগরীতে আধিপত্য বিস্তার করে আছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবু। ২০১০ সালে হত্যা মামলার পর থেকে পলাতক তিনি। মাদক ব্যবসা ও এলাকা দখল নিয়ে সংঘর্ষে তাঁর নাম বারবার সামনে এসেছে। এমনকি সম্প্রতি কারাগারের ভেতরেও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৪ মাসে খুলনা মহানগরীতে ৩৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া হামলা, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। অনেক ভুক্তভোগী প্রাণভয়ে অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

একজন ডিবি কর্মকর্তা জানান, চক্রগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত এখন নিয়মিত ঘটনা। এক দল অন্য দলকে দমন করতে গিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। অপরাধীরা নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেপ্তার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর আছে। নির্বাচনের প্রভাব কিছুটা পড়েছে, তবে কেউ যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি চলছে।”

এমবি/এসআর