ঢাবির শিক্ষিকা মোনামি'র বিরুদ্ধে ঘুষ ও গবেষণাপত্র জালিয়াতির অভিযোগ
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামি-র বিরুদ্ধে ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়া ও গবেষণাপত্র জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি মহিউদ্দিন মোহাম্মদ নামক ব্যাক্তির ফেসবুক পোস্টে এ ধরনের একটি অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বুধবার রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক একাডেমির ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
জানা গেছে, তিনটি কার্যালয়ই আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছে এবং যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রথমে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নেন এবং পরবর্তীতে একই প্রভাব ব্যবহার করে ২০ লাখ টাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের সময় একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তাদের বঞ্চিত করা হয়।
এছাড়া, পদোন্নতির লক্ষ্যে একাধিক জার্নাল আর্টিকেল অন্যের মাধ্যমে লিখিয়ে প্রকাশ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার বেশিরভাগ গবেষণাপত্র অপ্রাসঙ্গিক ও নিম্নমানের, যেগুলোর সাইটেশন রেকর্ডও ছিল না। পরে তিনি নিজেই একাধিকবার নিজের গবেষণা উদ্ধৃত করে সাইটেশন বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে মাস্টার্স শেষ করার সাত বছর পর তিনি পুনরায় যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে মাস্টার্সে ভর্তি হন, কারণ পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার মতো যোগ্যতা তার ছিল না।
প্রতিনিধিদল অভিযোগগুলোকে “গুরুতর একাডেমিক অপরাধ” আখ্যা দিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামিকে সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে শেহরিন আমিন ভূঁইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হতে পারে।
এ বিষয়ে উপাচার্য কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “যেকোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে যাচাই করা হয়। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদন: তানজির আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষা আন্দোলন।
সূত্রঃ মহিউদ্দিন মোহাম্মদ এর পোস্ট থেকে
এমবি/এসআর

