কুষ্টিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষার আগে আরএমওর বাসায় পরীক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল

Oct 25, 2025 - 11:46
 0  2
কুষ্টিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষার আগে আরএমওর বাসায় পরীক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে নিয়োগ পরীক্ষার আগে চাকরিপ্রার্থীদের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমওর বাসায় অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার দিন সকালে শহরের একটি বাসা থেকে একসঙ্গে ২৫–৩০ জন পরীক্ষার্থীর বেরিয়ে যাওয়ার এবং আগের রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই বাসায় প্রবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বিষয়টির সমালোচনা করছেন।

তবে আরএমও ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ঘটনাটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মো. আরেফিন। এ বিষয়ে জানতে জেলা সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে বারবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র জানায়, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানও শুরু করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ভোররাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ হোসেন ইমামের পৈতৃক বাসভবন থেকেই পরীক্ষার্থীরা বের হন। তাদের অভিযোগ, ওই বাসায় পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আগেভাগেই প্রশ্নপত্র দেখিয়ে মুখস্থ করানো হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ২৫–৩০ জন পরীক্ষার্থীকে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই বাসায় আনা হয়। সেখানে তাদের প্রশ্ন দেখানো এবং অনুশীলনমূলক পরীক্ষা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা গণমাধ্যম কর্মীদের খবর দেন। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে পরীক্ষার্থীরা দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন। কেউ কেউ দাবি করেন, তারা বন্ধুর বাসায় এসেছিলেন, আবার কেউ কোনো কথা না বলেই দ্রুত পালিয়ে যান।

ঘটনার সময়কার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ভোররাতে কয়েকজন পরীক্ষার্থী অ্যাম্বুলেন্সে করে আরএমওর বাসায় ঢুকছেন ও কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যাচ্ছেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পরীক্ষার্থী আব্দুস সালাম বলেন, ‘সীমাহীন নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির কারণে আমি এই পরীক্ষা থেকে বিরত থাকলাম এ বছর।’

আরেক পরীক্ষার্থীর স্বামী মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কিছুই গোপন থাকে না। ভিডিওতে দেখলাম, ভোররাতে পরীক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে আরএমওর বাসায় ঢুকছে ও বেরোচ্ছে। শুনেছি, এই চাকরির জন্য ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। ভেবেছিলাম নতুন সরকারের আমলে দুর্নীতি কমবে, কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেড়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আরএমও ডা. মোহাম্মদ হোসেন ইমাম বলেন, ‘ভোররাতের ঘটনায় আমি কিছুই জানি না। আমার পৈতৃক বাড়িতে আমি ও আমার ভাই ছাড়া তিনটি ফ্লোরে মেস রয়েছে। পরীক্ষার্থীরা ওই মেসেই এসেছিল। গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে তারা কেন পালিয়েছে, সেটাও আমার অজানা।’

অন্যদিকে, খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ও নিয়োগ পরীক্ষার কমিটির সভাপতি ডা. মজিবুর রহমান বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, বিতরণ ও উত্তরপত্র সংগ্রহে কোনো দুর্বলতা ছিল না। যদি কেউ বাইরে থেকে অনৈতিকভাবে সুবিধা নিতে চায়, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আমরা চাই, মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন হোক।’

এমবি/এসআর