এনসিপির নেতৃত্বে নতুন নির্বাচনী জোট গঠনের গুঞ্জনে ভাটা

বিএনপি–জামায়াত বলয়ের বাইরে ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের যে আলোচনা কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র হয়েছিল, তা শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

Nov 29, 2025 - 17:13
 0  2
এনসিপির নেতৃত্বে নতুন নির্বাচনী জোট গঠনের গুঞ্জনে ভাটা
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

বিএনপি–জামায়াত বলয়ের বাইরে ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের যে আলোচনা কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র হয়েছিল, তা শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, গণ-অধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং জেএসডি–সহ কয়েকটি সমমনা দলকে নিয়ে গঠিতব্য জোটের ঘোষণা দিতে গেলেও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও পারস্পরিক আস্থার সংকটে প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।

গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও, বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত টানা বৈঠকেও ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন নেতারা। ফলে এনসিপির নেতৃত্বে বড় রাজনৈতিক চমকের যে আলোচনা ছিল, তাতে আপাতত ভাটা নেমেছে।

জানা গেছে, জোট গঠনে অচলাবস্থার দুটি মূল কারণ হলো—
১. ‘আপ বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মকে জোটে রাখার বিষয়ে এনসিপির কঠোর আপত্তি।
২. গণ-অধিকার পরিষদের ভিতরে কৌশলগত বিভক্তি ও সিদ্ধান্তহীনতা।

এনসিপি নেতাদের বড় একটি অংশ মনে করেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেকদের উদ্যোগে গঠিত ‘আপ বাংলাদেশ’-এর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট নয়। এ কারণে ভবিষ্যতে জোটে সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতারা এনসিপির কাছে লিখিত রোডম্যাপ চাইলে, তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় আলোচনা জটিল আকার নেয়। এমনকি গণ অধিকারের পক্ষ থেকে এনসিপিকে একীভূত হওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়, যা বৈঠকের গতিপথ পাল্টে দেয়। তাদের একটি অংশ মনে করছে—হুট করে নতুন জোটে গেলে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জোটের তরুণ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে ধীরে এগোনোর পক্ষে মত দেন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সিদ্ধান্ত প্রায় প্রস্তুত থাকলেও শেষ মুহূর্তে কয়েকটি দলের আপত্তির কারণে ঘোষণাটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদি জোট—নির্বাচনের পরও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য কাজ করবে। তাই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তে আরও সময় লাগতে পারে। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জোটের ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি জানান।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘোষণার আগেই ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হওয়ায় জোটটির ভবিষ্যৎ এখন গণ অধিকার পরিষদের অবস্থান এবং এনসিপির নমনীয়তার ওপর নির্ভর করছে। তফসিল ঘোষণার আগেই সমাধান না হলে ‘তৃতীয় শক্তি’ গঠনের সম্ভাবনা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।

এমবি এইচআর